মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে চাপ দেওয়ার জন্য আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা মিয়ানমার সরকারের কাছে আবেদন করতে পারি। কিন্তু যদি সেখান থেকে সাড়া না আসে এবং নৃশংসতা চলতেই থাকে, তাহলে আসিয়ানকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের নির্যাতন ও অবিচার বন্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপকে অবশ্যই সমর্থন করতে হবে। আসিয়ানকে শিখতে হবে, যেসব সরকার তার নাগরিকদের বিরুদ্ধে অন্যায় ও অবিচার করছে, তাদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে কিভাবে চাপ সৃষ্টি করা যায়। থাইল্যান্ডের দ্য নেশন পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মাহাথির মোহাম্মদ এ কথা বলেন।
গত বছরের ২৫ আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ এই নৃশংসতাকে জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করেছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস এক প্রস্তাবে এই নৃশংসতাকে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছে। এই নৃশংসতার মুখে ৭ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
এ বিষয়ে মাহাথির বলেন, আসিয়ান যদি নির্যাতিত মানুষের ওপর গণহত্যাকে অনুমোদন করে, তাহলে মনে হবে যে, আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি না। বিদেশি অনেক নেতা অং সান সু চি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার জন্য। সু চি যখন ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সামরিক জান্তার অধীনে অবিচারের শিকার হয়েছিলেন তখন অন্য দেশগুলো যেমন তাকে রক্ষার জন্য সমর্থন জানিয়েছিল, তেমনই সু চির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে রোহিঙ্গাদের রক্ষার জন্য।
তিনি বলেন, এক সময় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন সু চি। কিন্তু এখন তিনি সরকারের একজন উচ্চ পর্যায়ের সদস্য। তবে সেনাবাহিনীর ওপর তার কোনো প্রভাব নেই। সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিজেকে সহযোগী হিসেবে দেখা তার উচিত নয়। তারা তার প্রতি অন্যায় করেছে। এখন সেই সেনাবাহিনীই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অবিচার করছে।
মাহাথির বলেন, রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চেয়েছে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মতো তারাও ফিরে যেতে রাজি নয়। তাদের অবস্থান দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে। তবে তারা মালয়েশিয়ার নাগরিক হবেন না। তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে দেখা হবে। শনিবার থেকে থাইল্যান্ড সফরে রয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি রোহিঙ্গা সংগঠনের আহ্বান
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো বলেছে, গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তারা দায়ী। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।