উপকথা

ভুটানের লোককাহিনি

 

অনেক দিন আগের কথা। ভুটানের এক গ্রাম। সেই গ্রামে ছিল এক গরিব চাষি। তার ধনসম্পদ বলতে কেবল এক গাদা ছেলে আর একটি ষাঁড়। ছেলেরা বড় হওয়া অবধি চাষাবাদে ষাঁড়ই ছিল চাষির একমাত্র সম্বল। পুরো সময় চাষি আর ষাঁড়ের কী ভীষণ কষ্ট! এক সময় ছেলেরা বড় হয়। তারা ফসলের খেতে বিভিন্ন কাজে বাবার সঙ্গী হয়।

চাষি মহা খুশি। এই উপলক্ষে এক উত্সবের আয়োজন করে। উত্সবে ষাঁড়টি প্রাণ হারায়। ভোজে অতিথিরা মজাদার ষাঁড়ের মাংস পেট পুরে খায়। উপকারী ষাঁড়টির কথা চাষি বেমালুম ভুলে যায়।

মৃত্যুর পর ষাঁড়টির ঠাঁই হয় নরকে। মালিক যে এমনটা করবে তা দুর্ভাগা প্রাণীটির বিশ্বাসই হয়নি। চাষির নিষ্ঠুরতায় ষাঁড়টি ভীষণ কষ্ট পায়।

ষাঁড়টি চাষিকে এক খবর পাঠায়। মৃত্যুর বদলা নেয়ার কথাও জানায়। এমন জঘন্য কাজের জন্য চাষির অনুশোচনা হয়। চাষি মন্দিরে প্রদীপ জ্বেলে মন্ত্র পড়ে। আর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গরিবদের ভিক্ষা দেয়। বড় বড় দেবতাদের পুজোও বাদ যায় না।

একদিন চাষির মৃত্যু হয়। নরকে চাষি আর ষাঁড়ের দেখা। মৃত্যুর দেবতা উভয়ের কাজের হিসাব নেন। অনুতপ্ত চাষির পুজোয় দেবতা বেশ খুশি। এমন খুশিতেই ষাঁড় আর চাষি নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায়।

রূপান্তর :কুতুব আজাদ