মধুখালীর রউফনগর গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সংগ্রামী জীবনের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য গড়ে উঠেছে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি যাদুঘর ও গ্রন্থগার। এই যাদুঘরটিতে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি আবারো মধুমতির গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। প্রতি বছর নদীর পানি বৃদ্ধি ও পানি টানের সময় ভাঙ্গনের কারণে মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সড়ক ও বসত ঘরবাড়ি ভেঙ্গে বিলীন হতে চলেছে। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করতে না পারলে হয়তো এক সময় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ সড়ক এবং স্মৃতি যাদুঘর ও গ্রন্থগারটিও ভাঙ্গনের শিকার হবে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের গন্ধখালী গ্রামের মতিয়ার রহমান মোল্যার বাড়ীর এলাকার নতুন করে প্রায় ৫০মিটার এইচবিবি সড়ক মধুমতি নদীতে ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। কোন যানবাহনতো দুরের কথা ভ্যানগাড়ী থেকে নেমে সাবধানে পুরাতন ভাঙ্গনসহ প্রায় ২শ মিটার রাস্তা হেঁটে পার হতে হচ্ছে।
ভাঙ্গন এলাকার রাস্তা পার হওয়ার সময় কথা হয় কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান ও এলাকার কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে। তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সবই আমাদের কপাল! দেখার কেই নেই। এ বছরের প্রথমদিকে গন্ধখালী গ্রামের আলেম শেক ও ইউনুস মৃধার বাড়ীর এলাকায় পুরাতন ১০০মিটার নদী ভাঙ্গন এলাকায় ১ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজ করা হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সবই গেছে মধুমতি নদীতে। তা ছাড়া নতুন করে প্রায় আধা কিলোমিটির নদীর ভাঙ্গনে শিকার হয়েছে। ঝুঁকিতে আছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখন এলাকার সাধারণ মানুষ, স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চলাচলে প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।
কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুর রহমান বাবু বিশ্বাস বলেন, উপজেলার নদী ভাঙ্গন ইউনিয়ন এটি। ইউনিয়নের গন্ধখালী ও সালামতপুর দুটি গ্রাম নদীভাঙ্গনের শিকার। বর্তমান যাদুঘরে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি যাতায়াতের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। গত দুই বছর নদী ভাঙ্গন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু কাজ করলেও আবার নতুন করে কিছু এলাকা ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বাড়ী-ঘর ফসলি জমি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নদী গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পথে। ইতোমধ্যে দুটি গ্রাম মধুখালী উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে গিয়েছে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, আমরা মধুমতি নদীর ভাঙ্গন এলাকা কামারখালী থেকে আলফাডাঙ্গা পর্যন্ত পরিদর্শন করেছি। মধুমতি নদীর ১৫ কিলোমিটর এলাকা স্থায়ী বাঁধের প্রকল্প প্রনয়ন করা হয়েছে। এ কাজটি বাস্তবায়ন হলে মধুমতি নদীতে ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি