মিরপুরে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় বাংলাদেশ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের যাত্রাটা ২০১৪ সালে। নয়নাভিরাম এই মাঠে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পা পড়েছে চলতি বছরের শুরুতে। হোম ভেন্যু হলেও সিলেট থেকে বেশিরভাগ সময়ই ভগ্ন মনরথে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। তিন ফরম্যাটে চার ম্যাচ খেলে জয় মাত্র একটি। সিলেটে বাংলাদেশের জয়ের খরা কেটেছিল গত ১৪ ডিসেম্বর। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আট উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সিলেটের মাটিতে বাংলাদেশের হারের মিছিলটা ক্রমশ বড় হচ্ছে। বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার কাছে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৭৫ রানে হেরেছিল টাইগাররা। গত সোমবার একই ভেন্যুতে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেও রীতিমতো উড়ে গেছে স্বাগতিকরা। আট উইকেটের হারে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।

তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ খেলতে গতকাল ঢাকায় এসেছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। গতকাল দিনের বাকি সময়টা বিশ্রামে ছিলেন দু’দলের ক্রিকেটাররা। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে দুই দল।

মিরপুরে আগামীকাল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়বে বাংলাদেশ। ১-০ তে পিছিয়ে পড়ায় ম্যাচটি স্বাগতিকদের জন্য সিরিজে টিকে থাকার লড়াই। সিলেটে সহজে হারলেও মিরপুরে সাকিব আল হাসানের দল ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন নির্বাচকরা।

জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু গতকাল বলেছেন, বাজে ব্যাটিং-বোলিংয়ের কারণেই হেরেছিল বাংলাদেশ। মিরপুর ও সিলেটের উইকেট-কন্ডিশন ভিন্ন বলে বাংলাদেশের ছন্দে ফেরার বিষয়ে আশাবাদী তিনি। ক্যারিবিয়ান বোলারদের গতির ঝড়, শর্ট বল, ব্যাটসম্যানদের মারকুটে ব্যাটিং থামানোর পরিকল্পনা নিয়েই মিরপুরে মাঠে নামবে সাকিব বাহিনী।

সিলেটের ম্যাচ নিয়ে প্রধান নির্বাচক গতকাল বলেছেন, ‘আসলে আমাদের ব্যাটিং, বোলিং ভালো হয়নি। ব্যাটিংটাই চাপে ফেলেছে।’ তবে মিরপুরে দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তিনি বলেছেন, ‘আজ (গতকাল) দল ঢাকায় ফিরেছে। এখন কাল (আজ) মিরপুরে অনুশীলন করবে। সেখানে ওদের ব্যাটিং, বোলিংয়ের ফুটেজ নিয়ে ভিডিও অ্যানালাইসিস হবে। পরিকল্পনা হবে।’

প্রধান নির্বাচক আরও বলেছেন, ‘মিরপুর ও সিলেটের কন্ডিশন ভিন্ন। আশাকরি, ঢাকায় দল ভালো করবে। একটা ম্যাচ দিয়ে সবকিছু বিচার করা যায় না। একটা ম্যাচ এমন হতেই পারে।’

মিনহাজুল আবেদীন নান্নু মনে করিয়ে দিলেন, গত জুলাই-আগস্টে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ সফরেও টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেন্ট কিটসে জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা। পিছিয়ে পড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় শেষ দুই ম্যাচ জিতে ২-১ এ সিরিজটা বগলদাবা করেছিল সাকিবের দল। তাই সিলেটে হারলেও মিরপুরে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। চলমান হোম সিরিজে টেস্টে ২-০, ওয়ানডেতে ২-১ এ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

সিলেটের উইকেটে ছিল বাউন্স, গতির ঝড় তুলেছিলেন উইন্ডিজ পেসার ওশানে থমাস ও শেলডন কোটরেল। তাদের জবাব দিতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে এসেছিলেন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার ও লিটন দাসরা। অধিনায়ক সাকিবের হাফ সেঞ্চুরির পরও তিন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশের স্কোর আর বড় হয়নি। অন্যদিকে সফরকারী দলের হোপ, পুরানরা ব্যাটিং করেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে।

তবে মিরপুরের উইকেট সাধারণ স্লো ও লো বাউন্সের হয়। কন্ডিশন বিবেচনায় বাংলাদেশের একাদশেও পরিবর্তন আসতে পারে। সিলেটে দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার আরিফুল হক ও সাইফউদ্দিন ছিলেন একাদশে। প্রতিপক্ষের স্পিন দুর্বলতা এবং উইকেটের মন্থরতাকে কাজে লাগাতে একাদশে ফিরতে পারেন বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। সুযোগ পেতে পারেন অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেনও।