আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ঢাকা জেলার ২০টি আসনে বড় দুই রাজনৈতিক জোটের প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত প্রচার-প্রচারণায়। তারা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন ভোট ও ভোটারদের নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষার কথা
এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে,
তার প্রমাণ তারা ইতোমধ্যে দিয়েছে
হাবিবুর রহমান মোল্লা, আওয়ামী লীগের প্রার্থী, ঢাকা-৫
নারায়ণগঞ্জ ঘেঁষা ঢাকার শেষ সীমানায় যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলী থানার আংশিক এলাকা নিয়ে ঢাকা-৫ আসন গঠিত। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা। নিজ নির্বাচনী এলাকায় বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১০ বছরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও ফিরিস্তি তুলে ধরে নির্বাচনী এলাকার হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন এই প্রবীণ নেতা।
হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আর তার প্রমাণ বিগত নির্বাচনে তারা ভোট দিয়ে আমাকে বারবার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি শুধু মানুষের সেবা করেছি, টেন্ডার বাণিজ্য করিনি। তাই এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবা করার সুযোগ আরেকবার পেয়েছি। তাই পরিকল্পিতভাবে এলাকার উন্নয়ন করে তাদের সব আশা পূরণ করার সুযোগ আবার চাই। ভোটাররা ভোট দিয়ে আমাকে সেই সুযোগ দিবেন।
যতই ধরপাকড় করা
হোক মাঠ ছাড়ব না
নবী উল্লাহ নবী, বিএনপি প্রার্থী, ঢাকা-৫
ঢাকা-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী। তিনি বলেছেন, আমাদের কর্মীরা দিনে পোস্টার লাগায়। কিন্তু রাতেই তা কেটে নিয়ে যায় আওয়ামী লীগ। তাদের সঙ্গে থাকে পুলিশও। দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। ধরপাকড়ের পরও নির্বাচনী মাঠে থাকবেন বলে জানান তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, যাদের রাজনৈতিক মামলা আছে তাদের গ্রেফতার করা যাবে না। তবে পুলিশ নির্বাচন কমিশনারের কথার কোনো মূল্যই দিচ্ছে না। যদি কোনো ক্ষমতা না থাকে তবে সিইসির পদত্যাগ করা উচিত। নবী উল্লাহ নবী বলেন, গত পাঁচদিন ধরে আমরা গণসংযোগে নেমেছি। আওয়ামী লীগ আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। আমাদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে পুলিশ। অতি উত্সাহী কিছু পুলিশ আছে তারা চায় আমরা মাঠ থেকে বিদায় হয়ে যাই।
স্বাধীনতার পর সবচেয়েবেশি
দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে এ আসনে
সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী, ঢাকা-৪
শ্যামপুর-কদমতলী নিয়ে ঢাকা-৪ আসন গঠিত। এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মহাজোট সমর্থিত বর্তমান সংসদ সদস্য এবং জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।
সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, গত নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনের মানুষকে আমি জলাবদ্ধতা নিরসনের ওয়াদা করেছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ ৫৫৮ কোটি টাকার পানি নিষ্কাশন প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এছাড়া আমার আসনে আমি ১৬টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করেছি। ধলপুরে আমি স্টেডিয়াম করেছি। বড়ইতলা রেলস্টেশন, সায়েদাবাদ টার্মিনাল, শহীদ ফারুক সড়কসহ ছোটবড় প্রায় একশ রাস্তা করেছি। এক কথায়, স্বাধীনতার পরে সবচাইতে বেশি দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে ঢাকা-৪ আসনে।
তিনি আরো বলেন, অনেক কাজ করলেও এখনো অনেক কাজ বাকি। আমি যদি পুনরায় নির্বাচিত হই তাহলে এখানে অত্যাধুনিক দুইটি কমিউনিটি সেন্টার করব, একটি খেলার মাঠ করব, বৃহত্ পরিসরে একটি কবরস্থান তৈরি করব।
দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার
সবাইকে নিয়ে কাজ করেছি
কাজী ফিরোজ রশীদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী, ঢাকা-৬
জাতীয় পার্টি-জাপার নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের প্রার্থী হয়ে লাঙ্গল মার্কা নিয়ে ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আসনে তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নকাজ করেছেন। জাপার প্রার্থী হলেও তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের খারাপ সম্পর্ক বা দূরত্ব নেই। তিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার সবাইকে নিয়ে কাজ করেছেন। স্থানীয় সবার সঙ্গেও তার ভালো সম্পর্ক আছে।
তিনি বলেন, উন্নয়নের দিক দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ বছর বাংলাদেশ যদি উন্নয়নের সেই ধারায় চলতে থাকে তাহলে বাংলাদেশের উন্নত দেশে পরিণত হওয়া কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তিনি বলেন, আজ জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নৌকা-লাঙ্গল এক হয়েছে।
প্রচার কাজে প্রতিদিনই বাধা ও
নেতাকর্মীদের, গ্রেফতার করা হচ্ছে
সালাহ্উদ্দিন আহমেদ,
বিএনপি প্রার্থী, ঢাকা-৪
রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলী এলাকা নিয়ে ঢাকা-৪ আসন। এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহ্উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রচার কাজে প্রতিদিন বাধা দেয়া হচ্ছে। পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের প্রতিদিনই গ্রেফতার করছে। নানাভাবে হয়রানি করছে। গত সোমবার ডিবির সদস্যরা আমার বাড়ির চারপাশ ঘিরে রেখেছিল। এছাড়া গত রবিবার শ্যামপুর থানার মহিলা দলের সভানেত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে দলের সহ-সভাপতিকে। বিএনপির এ নেতা বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ আমাদের প্রচার কাজে বাধা দিচ্ছে না, বাধা দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। পুলিশ এখানকার এক রাজাকারের পরিবারকে পাহারা দেয় এবং তার ছক অনুযায়ী পুলিশ আমাদের প্রচার কাজে বাধা দেয়।
তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, জেনারেল হাসপাতাল ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করব। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স থাকব।
ক্ষমতায় গেলে আইনের
শাসন, প্রতিষ্ঠা করব
অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, ঢাকা-৬
ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রচার কাজ করতে পারছি না। আমাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হচ্ছে। এটা চলতে পারে না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। দেশবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দুঃশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকার কথা ছিল। অথচ তাদের সময় ব্যাংক লুট হয়েছে কিন্তু তারা কোনো বিচার করতে পারেনি। গুম, খুন, হত্যা ইচ্ছে অনুযায়ী করেছে। বিচারের নামে করেছে অবিচার। গণতন্ত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের সুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থার গড়ে তুলব।