দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
মিরসরাইয়ে এলজিইডির দুটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেশ কিছু অংশ ধসে যাচ্ছে ইছাখালী খালের পানিতে। দীর্ঘ দুই বছর সড়কগুলো যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার ইছাখালী ও কাটাছড়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। সড়কগুলো হলো: উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ইউসুফ আলি সড়ক ও বামনসুন্দর শাহজি বাজার লুদ্ধাখালী সড়ক।
এডিবির অর্থায়নে ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর তত্ত্বাবধানে দুবছর আগে ড্রেজার দিয়ে ইছাখালী খাল খনন করা হয়েছিলো। খাল খননের কিছুদিন পরেই এই দুই সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়া শুরু হয়। ইছাখালীর লুদ্ধাখালী গ্রামের আবদুল মন্নান বলেন, ইছাখালী খাল খননের কিছুদিন পর থেকেই আমার বসতভিটার পার্শ্ববর্তী প্রায় ১৫০ মিটার সড়ক খালের পানিতে ধসে যাচ্ছে। এখন বসতভিটায় ফাটল দেখা যাচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বসতভিটাও ধসে পড়বে খালের পানিতে। লুদ্ধাখালী গ্রামের আরেক বাসিন্দা এমরান হোসেন বলেন, এই দুই সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় দুই ইউনিয়নের মানুষকে প্রতিদিন তিন-চার কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ইছাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের ফলে সড়কগুলো খালের পানিতে ধসে যাচ্ছে। খাল খননের সময় সঠিক তদারকি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে। কথা ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনী একটি বাজেট দিয়ে ধসে যাওয়া সড়কগুলো ঠিক করে দেওয়ার। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। এদিকে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নুরের নবি বলেন, একনেকে পাস হওয়ার পর প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী এই খাল খনন করা হয়েছে। ঐ এলাকায় কিছু সড়ক খালের পাড় ঘেঁষেই তৈরি করা হয়েছে। জনচলাচলের বিষয়টি মাথায় রেখে খাল খনন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড রাস্তা নির্মাণের কাজ করে না। রাস্তা নির্মাণের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের সড়কগুলো মেরামতের উদ্যোগ নিতে হবে।
মিরসরাই উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড খাল খননের সময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এই সমস্যার সৃষ্টি হতো না। এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নেই সড়ক দুটি ঠিক করতে হবে। তারা যদি তা না করে তাহলে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করব।