নবায়নযোগ্য শক্তি বা জ্বালানি (সৌর, জল ও বায়ু থেকে প্রাপ্ত) থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না সরকার। এমনকি লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছিও যেতে পারছে না। এর ফলে একদিকে মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি মিশ্রণে সমন্বয় করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে গ্রিডের বাইরে থাকা প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত বিদ্যুত্ পৌঁছাচ্ছে না। তেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনে অতি উত্সাহ ও অতি বিনিয়োগ, জমির স্বল্পতা ও এ নিয়ে বিরোধ এবং অভিজ্ঞতার অভাব এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি-বেসরকারি ও আমদানিসহ দেশে বর্তমানে বিদ্যুত্ উত্পাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুত্ খাতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে উত্পাদনের লক্ষ্য ছিল। সে হিসেবে তিন বছর আগেই এ খাত থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। অথচ বর্তমানে সব মিলিয়ে মাত্র ৫৫৯ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আসছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে। ২০২০ সালে মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উত্পাদনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে সরকার; কিন্তু সে লক্ষ্য এখন বাস্তবায়ন করা অসম্ভব বলেই মনে করছেন এ খাতে জড়িত কর্মকর্তারা।
বিদ্যুত্ খাতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২০ সালের মোট বিদ্যুত্ উত্পাদন সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার মেগাওয়াট। এ সক্ষমতায় গ্যাস, তেল ও কয়লাসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সৌর শক্তি, বায়ু ও জল ব্যবহার করে বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ বা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। আর ২০১৫ সালের মধ্যেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৫ শতাংশ বা ১০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুত্ উত্পাদনের কথা ছিল। অথচ বর্তমানে মোট বিদ্যুতের মাত্র ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ আসছে এ খাত থেকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুত্ বিভাগের নীতি-গবেষণা সংস্থা পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুত্ উত্পাদনে অনেক জমি দরকার। এক্ষেত্রে আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আবার অনেক স্থানে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জমি দেওয়ার পর ভূমি বিরোধ দেখা দেয়। এগুলো নিষ্পত্তিতে দেরী হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নেও বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সোলার হোম সিস্টেমে আমরা সাফল্য পেয়েছি। তবে বড় আকারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উত্পাদনে আমাদের অভিজ্ঞতা কম। ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদন দ্রুততর হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জির পরিচালক ড. সাইফুল হক বলেন, দেশে যে পরিমাণ পতিত জমি রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করা হলে কৃষির কোনো ক্ষতি হবে না। এছাড়া নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে সোলার প্যানেল স্থাপন করলে বিদ্যুত্ এবং ফসল দুইটি একই সঙ্গে পাওয়া সম্ভব।