বিচার জনগণের জন্য জনগণ বিচারের জন্য নয়

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিচার পাওয়া জনগণের মৌলিক অধিকার। এটা বিচারপ্রার্থীদের প্রতি দয়া বা সহানুভূতি দেখানোর কোন বিষয় নয়। বিচার জনগণের জন্য; কিন্তু জনগণ বিচারের জন্য নয়। তিনি বলেন, বিচারকদের খেয়াল রাখতে হবে, মামলার রায় ঘোষণার পর রায়ের কপি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থীর যেন আদালতের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করতে না হয়। হয়রানির শিকার হতে না হয়। দরিদ্র বিচারপ্রার্থীগণও যাতে যতদূর সম্ভব স্বল্পতম সময়ে ন্যায়বিচার পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি রাষ্ট্রপতি। তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভিন্ন মামলার জট দিন দিন বেড়ে চলেছে। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিচারকদের আরো তত্পর ও আন্তরিক হতে হবে। সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং বিচারকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেও সবসময় আন্তরিক। তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থায় মামলার সকল কর্মকান্ড সংরক্ষণ করতে হবে। দেশ ও জনগণের কল্যাণের প্রতি অগ্রাধিকার দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও সংসদের মধ্যে সমন্বয়ের কোন বিকল্প নেই। আইনজীবীগণ বিচার ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ। আইনজীবীদের সহায়তা ছাড়া সুষ্ঠু বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে না।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, বিচারক একা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। বিচারের সকল পর্যায়ে আদালতের আইনজীবীর সহায়তার প্রয়োজন হয়। আমাদের সামনে রয়েছে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতসমূহের দৃঢ় অবস্থান জনগণের মধ্যে আদালত সম্পর্কে গভীর আস্থার সৃষ্টি করেছে। তাই বিচারক ও আইনজীবী উভয়কেই তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আজ আমাদের স্বীকার করতেই হবে, সুপ্রিম কোর্টের বিগত ৪৭ বছরের পথচলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বহু উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেলহত্যা মামলা, ১৯৭১-এর মানবতা বিরোধী অপরাধ ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল মামলার বিচারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের অবদান ভুলবার নয়। দেশে বিচারহীনতার যে সংষ্কৃতি তৈরি হয়েছিল তা থেকে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে এসব হত্যাকান্ডের বিচারের কথা জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে।

অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বক্তৃতা করেন। সুপ্রিম কোর্টের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আপিল ও হাইকোর্টের বিচারপতিগণ, আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি। এসময় সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষে কেক কাটা হয়।