শীতের তীব্রতা শুরু হতে না হতেই খাগড়াছড়ির পাহাড়ি পল্লী ও গুচ্ছগ্রামগুলোতে প্রায় ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর সেবা দিতে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। জেলার উপজেলাগুলোর প্রত্যন্ত এলাকা থেকে অভিভাবকরা অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে রোগীদের সরাসরি জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসছেন।
এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলায় এসব রোগে অন্তত ২ হাজার শিশু নিউমোনিয়া ও রোটা ভাইরাল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর মধ্যে বেশিরভাগ শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ২৪ মাস। আজ বৃহস্পতিবার হাসপাতালে আউটডোর ও ইনডোরে কমপক্ষে ৫০ শিশুর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে গত এক মাসের ব্যবধানে জেলা সদর হাসপাতালে অন্তত ৭ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
গত কয়েকদিনের ব্যবধানে হঠাৎ অতিমাত্রার শীত ও ঠাণ্ডার প্রকোপ বাড়ায় সিভিয়ার নিউমোনিয়ায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুর বাড়তি যত্ন নেয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতাল এর শিশু ওয়ার্ডের কন্সালটেন্ড ডা. রাজেন্দ্র ত্রিপুরা ।
ডা. রাজেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, শীত আসার পর থেকেই শিশু ও বয়স্করা শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। শীতের শুরুতে পাহাড়ে ঝেঁকে বসেছে শীত। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, জ্বর নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে এসব শিশুরা। অসতর্কতার কারণে গর্ভবতী মা ও শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এসব কারণে নিউমোনিয়া আক্রান্ত নবজাতকের মৃত্যুও ঘটছে।
আরও পড়ুন: দেবে গেছে সেতু, উত্তরবঙ্গের ১০ জেলায় যানচলাচল ব্যাহত
তিনি আরও জানান, বসত বাড়ির পরিবেশ যাতে স্যাঁতস্যাঁতে না থাকে, বাচ্চাদের সবসময় গরম কাপড় দিয়ে রাখতে হবে। অনেক সময় গরম কাপড়ের কারণে ঘেমে গিয়েও শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। অতিমাত্রার ঠাণ্ডা লাগার কারণে এবং অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার গ্রহণ না করে সেই ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সদর হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে আসছে অধিকাংশ রোগী। তবে সিভিয়ার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চট্টগ্রামে রেফার করছে চিকিৎসকেরা।
লক্ষীছড়ি সদর উপজেলার বাসিন্দা লাচি মং মারমার শিশুপুত্র ৫দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে। লক্ষীছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ দিন চিকিৎসার পর প্রেরণ করা হয়েছে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে। সেই থেকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে লাচি মং মারমার সন্তানের।
ঠাণ্ডাজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মাটিরাঙা উপজেলার তবলছড়ি এলাকার করিম মিয়ার ৮ মাসের শিশু সন্তান। এখানে ভাল চিকিৎসা না পাওয়ায় করিম মিয়া খাগড়াছড়ি থেকে তার সন্তানকে নিয়ে যান চট্টগ্রামে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এখানে নিউমোনিয়ার উন্নত চিকিৎসা নেই।’ তবে চিকিৎসক ও নার্সরা দাবি করেন, নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ হাসপাতালে রয়েছে এবং রোগীদের দেওয়া হচ্ছে।’
ইত্তেফাক/এএএম