দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার জামালপুর প্রতিনিধি ও জামালপুর পল্লীকণ্ঠ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক শেলু আকন্দের (৫২) ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুর শহরের দেওয়ানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শেলুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পরে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, এক সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলার সাক্ষী হওয়ায় তার ওপর এই সন্ত্রাসী হামলা।
শেলু আকন্দ জানান, প্রতিদিন সকাল ও রাতে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে শহর বাইপাস রোড দিয়ে হাঁটাহাঁটি করেন। বুধবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ওৎপেতে থাকা পৌর কাউন্সিলর রুনু খানের ছেলে রাকিব খান, তুষার খান, স্বজন খান ও তুহিন খানসহ ৪/৫ জন তার ওপর হামলা চালায়। তারা লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেয়। এ সময় চিৎকার করলে এলাকাবাসীরা ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালেমুজ্জামান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে অভিযুক্ত রাকিব খানকে বুধবার মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।
আরও পড়ুন: দ্রুতগতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ২৫
জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা জানিয়েছেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলায় সাক্ষী হওয়ার ঘটনায় শেলু আকন্দের ওপর এই হামলা। এতে জড়িত পৌর কাউন্সিলর রুনু খান ও রকিবখানসহ সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় জামালপুরের সকল কর্মরত সাংবাদিকরা কঠোর আন্দোলনে যাবে।
উল্লেখ, গত ৬ মাস আগে পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মোস্তফা মনজুর ওপর হামলা করে বেধড়ক মারধর করে কাউন্সিলর রুনু খান, তার ছেলে রাকিব খান ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় জামালপুর থানায় মামলা দায়ে করা হয়েছিল। ওই মামলার ২নং সাক্ষী ছিলেন সাংবাদিক শেলু আকন্দ।
ইত্তেফাক/এসি