ধামইরহাটে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

নওগাঁর ধামইরহাটে প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের কারণে বৃদ্ধ ও শিশুরা বিপাকে পড়েছে। গরম কাপড়ের অভাবে অসহায় পরিবারগুলো ভোগান্তি পড়েছে। অবশ্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এতে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। শৈত্যপ্রবাহের ফলে মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষরা সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে। এছাড়া শীতের কারণে বৃদ্ধ ও শিশুরা অসহায় জীবন যাপন করছে। গরম কাপড়ের অভাবের ছিন্নমুল মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছে। বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। তবে রিকশা, ভ্যান, অক্টো চার্জারের যাত্রী ও চালকরা প্রয়োজনের তাগিদে ঘন কুয়াশার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। এদিকে গবাদি পশু তীব্র শীতের মধ্যে গো খাদ্য সংগ্রহের জন্য খোলা মাঠে চড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে তীব্র শীত : জমে উঠেছে ফুটপাতের গরম কাপড়ের বাজার

স্থানীয় জগৎনগর গ্রামের আদিবাসী কৃষক সন্তোষ মুরমু জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে মাঠে কাজ করা যাচ্ছে না। দিনরাত সমান শীতের কারণে তিনি কাহিল হয়ে পড়েছেন। বড় চকগোপাল গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দিন জানান, অনেক কষ্টে তিনি একটি সংস্থা থেকে কম্বল পেয়েছেন। সরকারি ও সেরকারি পর্যায়ের গরম কাপড় হিসেবে কম্বল বিতরণ চলছে।

এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.ইস্রাফিল হোসেন বলেন, ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৪ হাজার ১ শত ৪০ পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও বরাদ্দ আবেদন করা হয়েছে। এদিকে তীব্র শীতের কারণে অনেকে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, শীতের কারণে অনেকে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৪-৫ জন রোগী হাসপাতালে সেবা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত এবং অ্যাজমা রোগিদেরকে বিশেষ সেবা প্রদানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআরএম