‘ঠাণ্ডা বাতাসত হাত পাও সিক নাগিছে, আতিত (রাত) এনং ঠাণ্ডা, ঘুমাও না যায়। কাম কাজও না করা যাছে, বাহিরতও যাওয়া না যাছে। উঠান খানোত বসি আগুন পোহাচ্ছি।’ এমনভাবে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের বর্ণনা দিচ্ছিলেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের বগদুলঝুলা গ্রামের বৃদ্ধা মরিয়ম বেগম। এই প্রবীণের কথাতেই অনুমান করা যায় এবার ঠাণ্ডার প্রকোপ কতটা।
হিমালয়ের কাছে হওয়ায় বরাবরই পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ একটু বেশি। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি গত ৫০ বছরের মধ্যে পঞ্চগড়ে মাপমাত্রা নেমে এসেছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেদিন দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা পঞ্চগড় জেলায় রেকর্ড করা হয় হয়েছিল। এবার পৌষের প্রথম দিন থেকেই পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত। এর সঙ্গে উত্তরে হিমালয় থেকে আসা ঠাণ্ডা বাতাসে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। ঘন কুয়াশা আর উত্তরে বাতাসে পঞ্চগড়ের সর্বত্র এখন হাড়কাঁপা শীত অনুভূত হচ্ছে। গত শুক্রবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত তিনদিনে সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল পথঘাট। থেকে থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে চলায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে না কেউ। জীবিকার তাগিদে যারা বের হচ্ছেন মোটা সোয়েটার কিংবা জ্যাকেট পরে বের হচ্ছেন।
দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহনগুলো।
সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে তারা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শীতের প্রকোপ আর ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে কাজে যেতে পারছেন না শ্রমজীবীরা। এছাড়া হাসপাতালে ক্রমেই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম রহিদ বলেন, পঞ্চগড়ে এখন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। সারাদিন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকায় কম্বল পেলো ১২শ মানুষ
শুক্রবার পঞ্চগড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। পৌষের শুরু থেকেই শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশা পড়ছে এ এলাকায়।
ইত্তেফাক/নূহু