চোট কাটিয়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসির মাঠে ফেরার দিনে স্প্যানিশ লিগে বড়সড় এক ধাক্কাই খেল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠে রিয়াল বেতিসের কাছে হেরেছে ৪-৩ গোলে তারা। তবে বার্সেলোনা হারলেও জয়ের ধারা বজায় রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সেল্টা ভিগোকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে তারা।
২০ মিনিটে জুনিয়র ফিরপোর গোলে এগিয়ে যায় বেতিস। ৩৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বর্ষীয়ান ফরোয়ার্ড হোয়াকিন সাঞ্চেজ। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে স্বাগতিক বার্সেলোনা। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান মেসি। ৭১ মিনিটে মেসিরই স্বদেশী জিওভানি লো সেলসোর লক্ষ্যভেদে ২ গোলের ব্যবধান ফিরে পায় বেতিস। ৭৯ মিনিটে বার্সেলোনার দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্তুরো ভিদাল। ৮১ মিনিটে মিডফিল্ডার রাকিতিচ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বার্সা। এর দুই মিনিট পরে বেতিসের চতুর্থ গোলটি করেন সার্জিও কানালেস। যোগ করা সময়ে ভিদালের পাস থেকে মেসি গোল করলে আবারও ব্যবধান কমায় বার্সেলোনা। কিন্তু ততক্ষণে বেশ দেরি হয়ে গেছে। ৪-৩ গোলে হারতে হয় ভালভার্দের শিষ্যদের।
এ ম্যাচে বেশকিছু লজ্জাজনক ‘কীর্তি’ গড়েছে বার্সেলোনা। শেষবার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে চার গোল হজম করেছিল ২০০৩ সালে। সে ম্যাচে দেপোর্তিভো লা করুনার কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। এরপর ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সফরকারী দলই বার্সেলোনার জালে ৪ গোল জড়াতে পারেনি। সেই ধারা ভাঙলেন কোচ কিকে সেতিয়েনের শিষ্যরা। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ১৮ বছর পর টানা ১০ ম্যাচে গোল হজম করার লজ্জায় পড়তে হলো দলটিকে।
তবে বার্সেলোনা কোচ মনে করেন এমন হারের পেছনে প্রথমার্ধের বাজে পারফর্মেন্সই দায়ী। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমার্ধে ভালো খেলিনি এবং তারা একটি ইতিবাচক সুবিধা পেয়ে গেছে। প্রথমার্ধের পারফর্মেন্সের খেসারতই দিতে হয়েছে আমাদের।’
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভালভার্দে আরও বলেন, ‘আমরা শুরুটা ঠিকঠাক করতে পারিনি। আক্রমণে ওঠার সময়ে আমাদের মাঝে চনমনে ভাবের অভাব ছিল এবং এর পরিবর্তন ঘটাতে হবে আমাদের।’
এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ সান্তিয়াগো সোলারির অধীনে লা লিগায় টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলের হয়ে লক্ষ্যভেদ করেন করিম বেনজেমা, সার্জিও রামোস, দানি সেবায়োসের লক্ষ্যভেদে সেল্টা ভিগোর মাঠ থেকে ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
টানা চার জয়ের পর দলটির কোচের দায়িত্বটি পাকাপাকিভাবে পেয়ে যাওয়ার খবর ভেসে বেড়াচ্ছে মাদ্রিদের সংবাদ মাধ্যমে। কিন্তু আপাতত তাতে কান দিচ্ছেন না সোলারি। তিনি বলেন, ‘দলের ভালোর জন্য প্রয়োজনীয় কাজটা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অন্য সবকিছুই মূল্যহীন।’