স্পোর্টস রিপোর্টার
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারের ক্ষত এখনো শুকায়নি। এরই মধ্যে আসছে বুধবার বক্সিং ডে-তে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরিয়নে তিন ম্যাচ টেস্টের প্রথমটি খেলতে মাঠে নামবে। এর আগে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়াই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে, জানালেন অধিনায় সরফরাজ আহমেদ।
গতকাল শুরু হওয়া তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শুরু করছে সফরকারী পাকিস্তান ক্রিকেট দল। বেনোনির উইলোমোর পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রণমূলক একাদশের বিপক্ষে এ প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের কাছে ভাল কিছু আশা করছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচর টেস্ট সিরিজের আগে এই একটিমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচই খেলার সুযোগ পাচ্ছে পাকিস্তান।
সমপ্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজিত হওয়া টেস্ট সিরিজে চতুর্থ ইনিংসে দুইবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ও কোচ মিকি আর্থার উভয়েই স্বীকার করেছেন দুই দলের বোলিং লাইনআপই অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে হলে ব্যাটসম্যানদের ভাল করতে হবে।
২০০৫-২০১০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা দলের কোচের দায়িত্ব পালন করা আর্থার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্থর পিচের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে তার দলের তরুণ ব্যাটসম্যানরা ভাল মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে বলেই আমি মনে করি। দলে তরুণ মেধাবী কিছু ব্যাটসম্যান আছে। তারা যে কোন কন্ডিশনে ভাল করার ক্ষমতা রাখে।’
মিকি আর্থারের বিশ্বাস দক্ষিণ আফ্রিকায় তার দলের টেস্ট সিরিজ জয়ের ‘ভাল সম্ভাবনা’ আছে। সেঞ্চুরিয়নে বক্সিং ডে টেস্ট দিয়ে শুরু হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান সিরিজ। সিরিজে তিনটি টেস্ট ছাড়াও পাঁচটি ওয়ানডে ও তিনটি টোয়েন্টি খেলবে দু’দল।
তারুণ্য নির্ভর দলের ওপর ভরসা রেখে আর্থার বলেন, ‘আমাদের তারুণ্য নির্ভর চমত্কার একটি দল আছে যারা দলগতভাবে ভাল করতে পারে। সাদা বলে আমরা অবিশ্বাস্য রকমের ভাল খেলছি, ৫০ ওভারে দল ভাল অবস্থায় আছে, টি-টোয়েন্টিতে আমরা ব্যতিক্রমধর্মী পারফরমেন্স করছি। তবে টেস্ট এই মুহূর্তে আমরা ভাল একটি দলে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছি। দলটি তরুণ তবে প্রতিভাবান। প্রকৃত অর্থেই এখানে আমাদের ভাল একটা সুযোগ আছে।’
প্রোটিয়াদের সমস্যায় ফেলার মত ভাল বোলিং আক্রমণ বিভাগ সফরকারী পাকিস্তান দলের আছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট ও বাউন্সি পিচে তাদের ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা দিতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তুলনায় তার ব্যাটসম্যানরা দক্ষিণ আফ্রিকান কন্ডিশনে ব্যাটিংটা উপভোগ করবে জানান আর্থার। এ বছরের শুরুতে ইংল্যান্ডর মাটিতে সিরিজ ড্র করা থেকেও তারা উদ্বুদ্ধ হতে পারেন বলেও মনে করছিন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলিয়া দলের সাবেক কোচ আর্থার বলেন, ‘সব কন্ডিশনেই আমাদের পেস আক্রমণ দক্ষ। অনায়াসেই ২০ উইকেট নেয়ার বোলিং আক্রমণ আমাদের আছে। তবে আমাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ৩৫০-৪০০ রান করা। আমরা স্কোর বোর্ডে ভাল সংগ্রহ করতে পারলে যে কোন কন্ডিশনেই ২০ উইকেট নেয়ার ক্ষমতা অমাদের আছে। আমি সব সময় বলে আসছি সংযুক্ত আরব আমিরাতে যে ধরনের পারফরম করেছে উপমহাদেশের বাইরে আরো ভাল ব্যাটিং করার মত ব্যাটিং লাইন আপ আমাদের রয়েছে। ইংল্যান্ডে তারা অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। দলে বেশ কয়েকজন মেধাবী তরুণ ব্যাটসম্যান আছে, যারা যে কোন বোলিংয়ের বিপক্ষে ভাল খেলতে সক্ষম। এ ধরনের কন্ডিশনে তারা খুব বেশি ভাল খেলে।’