শেখ রাসেল ২
ব্রাদার্স ইউনিয়ন ০
স্পোর্টস রিপোর্টার
সেই কবে কোন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র সেটা নিয়ে এখন আর কথা বলতে রাজী না শেখ রাসেল কর্মকর্তারা। ২০১২-১৩ মৌসুমে ফেডারেশন কাপ ফাইনাল, স্বাধীনতা কাপ ফুটবল ফাইনাল এবং লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শেখ রাসেল। আবার আরেকটি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার টিকিট পেয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে শেখ রাসেল ২-০ গোলে ব্রাদার্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। গোল দুটি করেছেন উজবেকিস্তানের ফুটবলার আজিজভ আলীসের।
স্বাধীনতা কাপের তিন আসর পর আবার ফাইনালে উঠে কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা শেষে বেশ আনন্দের উত্তেজনা ছড়াল। সেখানে গা-ভাসাননি কোচ সাইফুল বারী টিটু। তিনি আগেও ফাইনালে উঠা কোচ ছিলেন। চ্যাম্পিয়নের স্বাদও পেয়েছেন।
সেমিফাইনাল ম্যাচ নিয়ে যতটা উত্তেজনা হবার কথা ছিল; তা হয়নি। কোচ সাইফুল বারী টিটু খুব সাবধানী। আগেই জানতেন ব্রাদার্সের দুই বিদেশি নেই। সেই ফাঁকটা কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেভাবে আক্রমণভাগের লাইনআপ সাজিয়েছিলেন। রেফারি আনিসুর রহমান কিকঅফেরা বাঁশী বাজার সঙ্গে সঙ্গে শেখ রাসেল যেন আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ল। একতরফা আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু সেই আক্রমণ সামাল দিয়ে ব্রাদার্স মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সুযোগই পাচ্ছিল না। তার উপর ব্রাদার্সের গোলকিপার সুজন চৌধুরী সেমিফাইনালে যে দাপট নিয়ে খেলেছিলেন সেটাও যেন উধাও। শীতেই জবুথবু হয়ে যারা খেলা দেখছিলেন বুঝতেই পারছিলেন যে কোনো সময় গোল হজম করবে ব্রাদার্স। শেষপর্যন্ত গোল হয়েছে স্টপওয়াচে ৪৫ মিনিট শেষ হলো মাত্র। নাইজেরিয়ান রাফায়েল ওদোইনের ক্রসের বলে উজবেক স্ট্রাইকার আজিজভ পায়ের আলতো ছোঁয়া দেন ১-০। গোল হজম করে ব্রাদার্সের প্রতিবাদ সহকারী রেফারি মনির আহমেদ ঢালীর দিকে। প্রথমে শোনা গেল অফসাইডের গোলের প্রতিবাদ। খেলা শেষে ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমের খান বললেন, ‘গোল আমরা মেনে নিয়েছি। লাইন্সম্যান আমাদের সোহেল রানাকে গাল দিয়েছে। লাইন্সম্যান গালি দেবে কেন।’ পাশে দাঁড়ানো সোহেল রানা বললেন, ‘ভাই কি বলব খুব বিশ্রী ভাষায় গালি দিয়েছে।’
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই আবার সেই আজিজভ গোল করলেন (২-০) ৫১ মিনিটে।
ব্রাদার্সের দুই বিদেশি ছিলেন না। একজন পানামার ফরোয়ার্ড জ্যাক ডানিয়েলস মেজা এবং আরেকজন হচ্ছেন ডিফেন্ডার ইরাকী ফুটবলার মুয়ায়ীদ খালিদ। জ্যাক ডানিয়েলস লালকার্ড পেয়েছিলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। তিনি সেমিফাইনালে খেলতে পারেননি। আর ইরাকী ফুটবলারের বাবা ব্রেন স্ট্রোক করেছে, সেই ফুটবলার দেশে ফিরে গেছেন। এ দুজনের জায়গা পূরণ করতে পারেনি ব্রাদার্স।
ব্রাদার্সের সমস্যাটা সেমিফাইনাল জয়ী শেখ রাসেলের কোচ টিটুর মুখেও ফুটল। ব্রাদার্সের রক্ষণভাগ প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দেয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। ম্যাচ হেরে ব্রাদার্সের ভারতীয় কোচ সৈয়দ নইমুদ্দিনের একটা কথা। গোল করতে পারেনি ফিনিশারের অভাবে। ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন শেখ রাসেলের জোড়া গোলদাতা আজিজভ। কিন্তু তিনি হ্যাটট্রিকের সুযোগ নিতে পারেনি তার আগেই কোচ তাকে মাঠ থেকে তুলে নিয়েছেন ইনজুরির ভয়ে। সামনে ফাইনাল খেলা রয়েছে বলে।
আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনাল: আবাহনী ও বসুন্ধরা। ৪টা ৩০, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।