ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার-৫ (নবীনগর) আসনে নৌকা আছে, আছে লাঙ্গল আর মশাল। নবীনগর সদরসহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে পাশাপাশি ঝুলছে এই তিন প্রতীকধারী প্রার্থীর পোস্টার ও লিফলেট। ভোটের মাঠে আলোচনা এখন এটাই- মহাজোটের তিন প্রার্থী। আর বিএনপির একজন।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন ১০ জন। তবে আলোচনার শীর্ষে আছেন চারজন। মহাজোটের এবাদুল করিম বুলবুল, বিএনপির কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, জাসদের অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন আর জাতীয় পার্টির কাজী মামুনুর রশিদ। জয়ের আশা তাদের সবারই।
সংসদ নির্বাচনের রেকর্ড অনুসারে ২০০৮ এর নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ এখানে জয় পায় দুবার। আর জাতীয় পার্টি চারবার, বিএনপি একবার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি ছেড়ে দেয়া হয় মহাজোটের শরিক জাসদকে। জাসদের অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেনকে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে আবারো জিকরুলকেই দেয়া হয় জোটের মনোনয়ন। কিন্তু ‘শারীরিক অসুস্থতা’ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি তার অনুসারী আওয়ামী লীগের ফয়জুর রহমান বাদলকে দেন। বর্তমানে বাদল এই আসনের এমপি হলেও তাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবাদুল করিম বুলবুলকে। তবে মনোনয়ন লড়াইয়ের শুরু থেকেই আলোচনা ছিল এবার আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি অথবা জাসদ পাবে। এরশাদ এবং ইনু দুজনেই নবীনগর এসে গেছেন। জোট নেত্রীর কাছে আসনটি তারা চাইবেন সেটিও বলে গেছেন। এ অবস্থায় বর্তমান এমপি অনাগ্রহী হয়ে দলের মনোনয়ন ফরম নেয়া থেকে বিরত থাকেন। পরে তার সমর্থকরা ফরম সংগ্রহ করেন এবং জমা দেন। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন মহাজোটের শরিক দুদলের কেউই পাননি। মনোনয়ন বঞ্চিত হন বর্তমান এমপি ফয়জুর রহমান বাদলও। তবে মনোনয়ন পান কৃষকলীগের উপদেষ্টা মোঃ এবাদুল করিম বুলবুল। তবে মহাজোটের শরিক ওই দুই দলের প্রার্থী রয়েছেন ভোটের মাঠে। এদিকে বাদল মনোনয়ন না পাওয়ায় হতাশায় তার কর্মী-সমর্থকরা এখনো নীরব।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি- নবীনগরে এ তিন দলের অফিসই এখন সরগরম। বিভিন্ন এলাকা থেকে দলের নেতাকর্মীরা আসছেন তাদের নেতার কাছে। নিয়ে যাচ্ছেন পোস্টারসহ প্রচার সামগ্রী। নিচ্ছেন মাঠে কাজ করার দিক-নির্দেশনা। আর প্রার্থীরাও নেমেছেন প্রচারণায়।
অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন বলেন, আমি খুবই সিরিয়াস। ইনশাআল্লাহ আমি জয়ী হবো। যারা দেশকে ভালোবাসে, যারা মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসে, অহংকার মনে করে, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সবাই আমাকে ভোট দেবে। তাছাড়া আমি একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ। সকল শ্রেণির মানুষই আমাকে ভোট দেবেন। আমার ভোটারদের বড় একটি অংশ আওয়ামী লীগেরই সমর্থক।
মহাজোট প্রার্থী এবাদুল করিম বুলবুল বলেন, জাসদ ও জাতীয় পার্টি নিজেদের দলের প্রতীকে নির্বাচন করে দাবি করছেন তারা মহাজোট প্রার্থী। এই অধিকার তাদের নেই। তারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। মহাজোটের প্রতীক হচ্ছে নৌকা। তিনি আরো বলেন, এরা ভোটের মাঠে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হবো।
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, ভোটের মাঠে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী অবস্থানে আছে। বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে আর প্রশাসন হস্তক্ষেপ না করলে আমরাই বিজয়ী হবো। এটা জাতীয় পার্টির ঘাঁটি।
তবে বিএনপি প্রার্থী নাজমুল হোসেন তাপস বলেন, এখনো উত্সবমুখর পরিবেশ বিরাজমান। সব প্রার্থী যার যার মতো প্রচারণা চালাচ্ছে। এখানে ধানের শীষের অবস্থান ভালো। মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে আমাদের জয় নিশ্চিত।