ঝিনাইদহ-২ আসন

ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ সংকটে বিএনপি

 

মো. শাহানূর আলম, হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হরিণাকুণ্ডু ও ঝিনাইদহ সদর নিয়ে ঝিনাইদহ-২ নির্বাচনী এলাকায় সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত চলছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাহ্জীব আলম সিদ্দিকীর গণসংযোগ ও প্রচারণা। প্রার্থী নিজে এবং দলের নেতা-কর্মীরা শহরের পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামের আনাচে-কানাচে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে গ্রামগঞ্জ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে উঠান বৈঠক, মিছিল আর মাইকে নৌকা মার্কার ভোট প্রার্থনা। এলাকাজুড়ে বইছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী উত্সব।

এদিকে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রার্থী বাসদের মই মার্কার আসাদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী মও.ফকরুল ইসলাম এবং জাকের পার্টির গোলাপ ফুল মার্কার আবু তালেব।

অপরদিকে বিএনপির শিবিরে সংকট কাটছে না। দলের মনোনয়ন পাওয়া থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত চলছে প্রার্থীতা নিয়ে জটিলতা, তারপর রয়েছে হামলা মামলার ভয়। নেতা-কর্মীরা মাঠে নেই। নেই কোনো নির্বাচনী ক্যাম্প, পোস্টার কিংবা মাইকিং। বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মজিদ সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন প্রশাসন আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করছে। হামলা মামলার ভয়ে তারা নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, তার সাথে দেখা করতে এসেও অনেকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং আহত হয়েছেন।

এছাড়াও বিএনপির মধ্যে রয়েছে ঐক্যের অভাব। জেলা শাখার সভাপতি সাবেক এমপি মসিউর রহমান নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর তার ছেলেকে দিয়ে নির্বাচন করাতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেখানেও তিনি ব্যর্থ হয়ে এখনো পর্যন্ত মাঠে নামেননি। আবার বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী এখন আওয়ামী লীগের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করছেন। সবমিলিয়ে বিএনপি ঘর এখন বড়ই নড়বড়ে।

 আশা একটাই এই আসনে আওয়ামী লীগের জয়ের খতিয়ান খুবই নাজুক। ১৯৭৩ সালের পর ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী মসিউর রহমানকে পরাজিত করে জয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম অপু। এজন্য পূর্বের রেকর্ডই বিএনপির বড় আশা। দলের উত্সাহী কিছু নেতা-কর্মীরা মনে করছেন ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে তারাই জয়লাভ করবে। বিএনপি এখন রয়েছে সেই সুযোগের অপেক্ষায়। তবে বেশিরভাগ ভোটারেরই ভাবনা আওয়ামী লীগেরই আবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি। এই অবস্থায় ঝিনাইদহের বিএনপির নেতা-কর্মীরা আর ঝুঁকি নিতে চাইবে না। সবমিলিয়ে এখানে আওয়ামী লীগের জয়ের পাল্লা অনেক ভারি বলে মতামত দিয়েছেন সচেতন মহল।