অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৮৮ ভাগ তরুণ শ্রমিকের নিয়োগপত্র নেই

অপ্রতিষ্ঠানিক খাতের শতকরা ৮৮ভাগ তরুণ শ্রমিকের চাকরিতে নিয়োগপত্র নেই। ৮২ ভাগের পরিচয়পত্র নেই, ৯৩ ভাগের সার্ভিস বুক নেই, ৬২ ভাগকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করা হয়, ৬৩ ভাগের জন্য ওভারটাইম ভাতা দেওয়া হয় না, ৯৮ ভাগেরই ন্যূনতম মজুরি সম্পর্কে ধারণা নেই। আর ৬০ ভাগ শ্রমিকের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার নিচে। নির্মাণ, বিউটি পার্লার, অটোমোবাইল, হোটেল রেস্টুরেন্ট এবং অনলাইন বিজনেস এই পাঁচটি সেক্টরের ওপর পরিচালিত গবেষণায় এমন তথ্য উঠে আসে।

গতকাল বুধবার ডেইলি স্টার ভবনে আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিক অধিকার ও তরুণ শ্রমিকের শোভন কাজ’ শীর্ষক বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। একশন এইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্স এই গবেষণাটি করেন।  

বৈঠকে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজ আহমেদ। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ ভাগ শিশুশ্রমের অস্তিত্ব ওই সব  কর্মক্ষেত্রে রয়েছে এবং সেটি ঝুঁকিপুর্ণ। রেস্টুরেন্ট, নির্মাণ এবং বিউটি পার্লারে শিশুশ্রম রয়েছে। ৪৩ ভাগ কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি সম্পর্কে জানেন না এবং ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন নেই।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, শ্রম আইন-২০০৬ আন্তর্জাতিক নীতি অনুযায়ী শোভন কাজকে পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি। কিন্তু তরুণ শ্রমিকরা তাদের অধিকার সম্পর্কে অবগত নয়। এ বিষয়ে তাদের সচেতন করতে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা শ্রমিকদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা, শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে মালিক শ্রমিক চুক্তি স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা, আইএলও সনদ ৮৭ ও ৯৮ এর সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিক অধিকার এবং ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেন।

শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, শ্রমিকদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও শোভন কাজ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে সমন্বিত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, শোভন কাজের ক্ষেত্রে জেন্ডারের বিষয়টি গুরুত্বারোপ করা, নারী শ্রমিকদের জন্য আইনের সুরক্ষা, শিশুশ্রম নিরসন, শ্রমিকদেরকে পরিচয়পত্র প্রদান, মাতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ, পেনশনের ব্যবস্থা করা, সকল সেক্টরকে শ্রম আইনের আওতায় আনা, তরুণ শ্রম শক্তিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়ার বিষয়ে সুপারিশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভা-প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভূঞা। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইএলওর স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড প্রডাকটিভিটি প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার কিশোর কুমার সিং প্রমুখ।