জাপান ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক জার্নাল নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ বাংলাদেশ নিয়ে এক বিস্তারিত সমীক্ষায় বলেছে, অর্থনীতির উত্তরোত্তর উত্থান ঘটছে এবং আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকবে। গতকাল বুধবার নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ’র ‘দ্য রাইজ এন্ড রাইজ অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে। জার্নালটির এডিটর এ্যাট লার্জ গোয়েন রবিনসনের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়, অপেক্ষাকৃত কম আন্তর্জাতিক মনোযোগ পেলেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিশ্বের অন্যতম সাফল্য গাথায় পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পর পর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার কারণে ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিরোধিতা থাকলেও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকেই একমত যে, ক্ষমতাসীন দল বিজয়ী হলে অধিকতর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবং ক্ষমতাসীনরা বিজয়ী হলে বাংলাদেশ এক দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে। চলতি বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশ ২০২৪ সাল নাগাদ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জাতিসংঘের নির্ধারিত শর্তাবলী পূরণ করায় দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি ডিসেম্বর মাসে নিক্কেই এশিয়ান জার্নালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এলডিসি থেকে বের হয়ে আসা আমাদের এক ধরনের শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, যা শুধু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নয় দেশের মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনা বলেন, এলডিসিভুক্ত থাকলে আপনাকে যেকোনো প্রকল্পের শর্তের ব্যাপারে অপরের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়। আর সেখান থেকে উত্তরণ ঘটলে আপনাকে আর কারো ওপর নির্ভর করতে হয় না। কারণ তখন আপনার নিজের অধিকার জন্মে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুধু অব্যাহত নয় আরো গতিশীল হবে উল্লেখ করে বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশা করছি এবং ২০২১ সাল নাগাদ তা ১০ শতাংশে উন্নীত হবে বলেও আশা করছি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে। গত এক দশক ধরে দেশটি গড়ে ছয় শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং এ বছর ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ২০০৯ এর পর থেকে বাংলাদেশের মানুষের মাথা পিছু আয় তিন গুণ বেড়েছে যা বর্তমানে এক হাজার ৭৫০ মার্কিন ডলার। এছাড়া অতি দরিদ্রের হার ১৯ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য সরকারি টার্গেটও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছর রফতানির পরিমাণ রেকর্ড ৩৬.৭ বিলিয়নে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সাল স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে এটিকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে শিল্প খাতকে আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্সের কারণে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠছে। ২০১৮ সালে এটি ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। সারা দেশে ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে ১১টির কাজ শেষ হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি বাসভবনে এই আলাপের সময় প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কর্তৃত্ববাদের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তার দল বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সুরক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। শেখ হাসিনা দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ১০ বছর আগের সাড়ে সাত বিলিয়ন থেকে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা নিজস্ব সম্পদ তহবিল গড়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, যাতে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে অর্থায়ন করতে পারি।
বাংলাদেশে চীনের বড় বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি খুবই সাধারণ ব্যাপার কারণ চীন এই অঞ্চলে বড় ভূমিকা রাখতে চলেছে। আমাদের পররাষ্ট্র নীতি খুবই স্পষ্ট; সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যা চলছে সেটা তাদেরই ব্যাপার।