নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কানকিরহাট ইসলামিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ভবনের চার তলা থেকে পালাতে গিয়ে নিচে পড়ে জহিরুল ইসলাম সাজিদ (১৩) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম (১৩) নামে আরেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
নিহত সাজিদ সেনবাগ পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের অস্টদ্রোন গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। আহত সাইফুলের গ্রামের বাড়ি উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের জোড়তুলা গ্রামে। তারা দুইজনই ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র।
আহত অবস্থায় তাদেরকে প্রথমে সেনবাগ পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজিদকে মৃত ঘোষণা করেন। আর সাইফুলকে হাসপাতালে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: জেএসসিতে রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার কমেছে, বেড়েছে জিপিএ-৫
নিহতের সাজিদের চাচা আবদুর রব মঙ্গলবার দুপুরে ইত্তেফাককে জানান, সোমবার রাত ১২টার দিকে মাদ্রাসা থেকে তাদেরকে ফোন করে কেউ একজন জানান- মাদ্রাসার চার তলা ভবনের জানালা দিয়ে পালাতে গিয়ে নিচে পড়ে সাজিদ এবং সাইফুল নামে দুই ছাত্র আহত হয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরে রাত ১টার দিকে তিনিসহ পরিবারের লোকজন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে সাজিদের মৃত দেহ দেখতে পান। এসময় পুলিশও উপস্থিত ছিল। পরে তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা আজ মঙ্গলবার মাদ্রাসা ভবন পরিদর্শন করে জানালা দিয়ে পালানোর কোন আলামত দেখতে পাননি বলে দাবি করেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের দুইজনকে পর পর উপর থেকে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীল হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে দায়িত্বে অবহেলা বা সন্দেহে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। প্রাথমিক তদন্ত হিসেবে তিনি দাবি করেন- সম্ভবত মাদ্রাসা থেকে পালাতে গিয়ে এ দুই ছাত্রের মধ্যে একজন নিহত ও অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
নিহত ও আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এএএম