খুলনায় মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছে। বুধবার চতুর্থ দিনের মতো অনশন করেছে ৭টি পাটকলের শ্রমিকরা। তারা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যেতে অনড় রয়েছেন। হাড় কাঁপানো শীতেও তারা মাঠ ছাড়েননি। শ্রমিকদের টানা কর্মসূচিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ৭টি পাটকলের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে দৈনিক প্রায় কোটি টাকার পাটপণ্য উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পাটকলগুলো।
এদিকে, হাড় কাঁপানো তীব্র শীতের মধ্যে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের কারণে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে ৯ জনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের অনশনস্থলে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন বলেন,‘ প্রচণ্ড শীত ও ক্ষুধায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বেশি অসুস্থদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বাকিদের অনশন স্থানে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত অথবা প্রত্যাহার করা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে।’
আরও পড়ুন: সাংবাদিকরাই প্রাথমিক তথ্যের উৎস: দুদক চেয়ারম্যান
প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, ‘অনশনে গুরুতর অসুস্থ হওয়া ৯ জনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
বিজেএমসি সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব ৯টি পাটকলের মধ্যে যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিল বাদে বাকি ৭টি পাটকলের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এ পাটকলগুলোতে প্রতিদিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭২ দশমিক ১৭ মেট্রিক টন। সেখানে চালু থাকা ওই দু’টি পাটকলে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৮৬ দশমিক ৩৯ মেট্রিক টন। পাটকলগুলোতে প্রতিদিনের উৎপাদিত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।
বিজেএমসির খুলনার আঞ্চলিক লিয়াজোঁ কর্মকর্তা মো. বনিজ উদ্দীন মিয়া বলেন, ‘খুলনা জোনের মিলগুলোর প্রতিদিন যে পরিমাণ উৎপাদন ক্ষমতা তার মাত্র ২৫ ভাগ পাটজাত পণ্য উৎপাদন হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে গত ১৫, ২২ ও ২৬ ডিসেম্বর তিন দফা বৈঠক হলেও তাতে কোনো সুফল আসেনি। সর্বশেষ ২৬ ডিসেম্বরের বৈঠকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় ওই দিন ২৯ ডিসেম্বর দুপুর থেকে আবারও অনশন করার ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা। সেই অনুযায়ী শ্রমিকরা অনশন কর্মসূচি পালন করছে।
ইত্তেফাক/এএএম