আবাহনীর বিদায়, ফাইনালে বসুন্ধরা

গোল ঠেকালেন, গোল দিলেন জিকো

গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোর নৈপুণ্যে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস। জিকোই নায়ক। তিনি একাই বসুন্ধরাকে ফাইনালে তুলে দিয়েছেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা কলিন্দ্রেস যেখানে ব্যর্থ, সেই সময়ে গোলরক্ষক জিকো প্রথমে আবাহনীর শট ঠেকালেন, এরপর নিজে শট মেরে গোল করলেন।

বসুন্ধরা ও আবাহনীর খেলাটি নির্ধারিত সময়ে ছিল ১-১। টাইব্রেকারে ৪-৪। এরপর সাডেন ডেথে ৩-২ গোলে আবাহনীকে হারিয়ে ফাইনালে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের প্রতিপক্ষ হলো বসুন্ধরা। আবাহনী ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে ৩-১ গোলে বসুন্ধরাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

কিন্তু গতকাল স্বাধীনতা কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দুদলের খেলা ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্তি ৩০ মিনিটেও কোনো পরিবর্তন হয়নি স্কোর লাইনে। টাইব্রেকারও ছিল সমতায়। সাডেন ডেথে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে প্রথম শটে আবাহনীর রায়হান হাসান গোল করেন। বসুন্ধরার কাঞ্চন গোল সমতা ফেরায়। আবাহনীর বাদশা ও বসুন্ধরার মাসুক মিয়া জনি গোল করলে স্কোর সমান থাকে।

এরকম পরিস্থিতিতে আবাহনীর জিতুর শট ঠেকিয়ে দেন জিকো। এবার পোষ্টের নিচে আবাহনীর গোলকিপার সোহেল। বল বসিয়ে শট নিয়েই বসুন্ধরার গোলরক্ষক জিকো বল পাঠালেন জালে ৩-২। নায়ক হয়ে গেলেন এই গোলরক্ষক। অথচ কলিন্দ্রেস টাইব্রেকারের শেষ শটে গোল করতে পারলেই বসুন্ধরা জয়ের বন্দরে পৌঁছে যেত। তার ব্যর্থতায় খেলাটি গড়ায় সাডেন ডেথে।

জিকো কোয়ার্টার ফাইনালেও বসুন্ধরাকে তুলে নিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জিকোর দারুণ পারফরম্যান্স দেখে অন্য সব খেলোয়াড় তাকে ঘিরে আনন্দে ভাসেন। অধিনায়ক কলিন্দ্রেসও তাই জিকোকে জড়িয়ে ধরে কৃতজ্ঞতায় ভাসালেন।

নব্বই মিনিটের খেলা ১-১ গোলে শেষ হলেও অসংখ্য সুযোগ নষ্ট হয়েছে, যা দেখে আফসোস করতে হয়েছে দর্শকদের। আবাহনীর শুরুটা ছিল দারুণ। আক্রমণাত্মক। দারুণ উজ্জীবিত সানডে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। বসুন্ধরার ব্রাজিলীয়ান মার্কোস আগের খেলায় ছিলেন না। কাল নেমে কলিন্দ্রেসের পাশে বারুদ ঢেলে দিয়েছিলেন তিনি। ৬৯তম মিনিটে বসুন্ধরা কিংস মতিন মিয়ার গোলে এগিয়ে যায় ১-০। কলিন্দ্রেসের যাদুকরি ব্যাকপাসে সুফিলের ঠেলে দেওয়া বলে মতিন মিয়া গোল করেন। ৮২তম মিনিটে আবাহনী গোল শোধ করে, হাইতির ফরোয়ার্ড বেলাফোর্টের গোলে আবাহনী ম্যাচ বাঁচায় ১-১। এই বেলফোর্টই টাইব্রেকারে গোল করতে না পারায় পিছিয়ে গিয়েছিল আবাহনী।

সেমিফাইনালের নায়ক বসুন্ধরার গোলরক্ষক জিকো এতসব নৈপুণ্যের মধ্যেও ফেডারেশন কাপের ফাইনালের কথা ভেবে কষ্ট পান। সেই খেলাটিতে হেরে যাওয়ায় এএফসি কাপে খেলার সুযোগ নষ্ট হয়েছে বলে। আবাহনীর পর্তুগীজ কোচ লুসিয়াংনো লেমস বলেন, ‘আমাদের ব্যাডলাক। আমাদের নির্ধারিত সময়েই জেতা উচিত ছিল। তিন চারটা শট পোস্টে লেগে ফিরেছে। আমরা বসুন্ধরার চেয়ে ভালো খেলেছি।’