বিপিএল খেলা হচ্ছে না স্মিথের

স্পোর্টস রিপোর্টার

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরে খেলা হচ্ছে না স্টিভ স্মিথের। বল টেম্পারিংয়ের কারণে নিষিদ্ধ বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটারের আগামী ৫ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলার কথা ছিল; কিন্তু নিয়মের বেড়াজালে স্মিথকে হারাচ্ছে টুর্নামেন্টের সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল স্মিথের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দিয়েছিল; কিন্তু পরে বাকি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আপত্তির মুখে পিছু হটে এবং সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দেয় ক্রিকেট বোর্ডের উপর। পরে বিসিবি বহাল রেখেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত। বিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটি ও বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস গতকাল এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এবার আর খেলতে পারছে না স্মিথ। এটা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকেও ইমেইল করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

মূলত বিদেশি ক্রিকেটার কোটায় শ্রীলঙ্কান আসেলা গুনারত্নের বদলি হিসেবে স্মিথকে দলে টেনেছিল কুমিল্লা। তখন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল অনুমোদনও দিয়েছিল দলটিকে। যদিও বিপিএলের বাইলজ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি ক্রিকেটারের বদলি হিসেবে নতুন কাউকে নিতে হবে ড্রাফট তালিকা থেকে। ড্রাফটের বাইরে থেকে নেওয়া যাবে না। আর বিপিএল ড্রাফটে ছিল না স্মিথের নাম।

কুমিল্লাকে অনুমতি দেওয়ায় আপত্তি জানায় অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। সবার আগে আপত্তি জানায় রংপুর রাইডার্স। পরে বাকি দলগুলোও যোগ দেয়। অবশেষে সবার আপত্তির মুখে স্মিথকে বিপিএল খেলার জন্য দেওয়া অনুমতি পত্র প্রত্যাহার করে নিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।

বল টেম্পারিং কান্ডের পর কানাডার গ্লোবাল টি-২০, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলেছিলেন স্মিথ। বিপিএল খেলার আগ্রহ জানিয়েছিলেন তিনি। কুমিল্লার সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পরই ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছিলেন। কুমিল্লার হয়ে খেলতে মুখিয়ে আছেন বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

শুধু স্মিথ নয় বল টেম্পারিং কান্ডে নিষিদ্ধ হওয়া ডেভিড ওয়ার্নারও এবার বিপিএলে খেলবেন। সিলেট সিক্সার্সের অধিনায়কও ঘোষণা করা হয়েছে ওয়ার্নারকে। এ দুই তারকা ক্রিকেটারকে পেলে বিপিএলই লাভবান হতো বেশি। বিশ্ব পরিমণ্ডলে বিপিএলের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়তো।

বিসিবি পরিচালক জালাল ইউনুস বলেছেন, সেই লক্ষ্যেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমরা সেটাই চেয়েছিলাম। এই স্পিরিটেই আমরা প্রথমে অনুমোদন দিয়েছিলাম। পরে সবাই বেঁকে বসল, অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি। ওদের কথা, এমন সুযোগ থাকলে আমরাও আনতে পারতাম, আমাদের দেননি কেন? এটা নিয়মের ব্যত্যয়। আমরা ভাবছিলাম বাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি মেনে গেলে আমরা তার জন্য বাইলজের এই ক্ষেত্রে শিথিল হবো; কিন্তু কেউ রাজি হয়নি।’

স্মিথরা সাধারণত বিপিএলে খেলতে রাজি হন না। এবার স্মিথ-ওয়ার্নার দুইজনকেই পাওয়া যেত; কিন্তু নিয়মের জটিলতায় পড়ে আসা হচ্ছে না স্মিথের। তাকে পেলে বিপিএলের রঙ, যশ অনেক গুণ বেড়ে যেত। জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘অবশ্যই, এটা চিন্তা করেই দিয়েছিলাম। আমাদের দর্শক বাড়তো বিদেশে, গ্ল্যামার বাড়তো, টুর্নামেন্টের হাইপ অনেক উঁচুতে চলে যেত।’

অবশ্য এই বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলটির পক্ষ থেকে স্মিথকে হারানো প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে জানা গেছে, এখনো সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যায়নি। স্মিথকে পাওয়ার আশায় এখনো অপেক্ষায় আছে কুমিল্লা।