ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য বর্তমান প্রজন্মের একটি শ্রেষ্ঠ উপহার

গত এক দশকে বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় ও গতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম যথেষ্ট বেগবান হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০০০ সালের প্রথম দিকে ৪ শতাংশের কম থেকে ২০১৮ সালে তা ৭.৮৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে; দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালে ৪০ শতাংশ থেকে ২০১৮ সালে ২২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয় ২০০২-২০০৬ অর্থবছরে গড় ৪৪৭ মার্কিন ডলার থেকে ২০১৮ সালে ১৭৫১ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে; ২০১৮ সালে গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর এবং ২০১৭ সালে সাক্ষরতার হার বেড়ে হয়েছে ৭২.৯ শতাংশ। দেশে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে আধুনিক উত্পাদন এবং সেবাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ একটি নিম্ন আয়ের অর্থনীতি থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের অর্থনীতিতে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো দেশটি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার সকল শর্তাবলি পূরণ করেছে।

তবে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি— যেমন ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা প্রভৃতি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ— যা টেকসই উন্নয়নের জন্য অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। স্থিতাবস্থা পরিস্থিতিতে ২০৫০ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটির অতিরিক্ত ১৪ শতাংশ এলাকা প্রবল বন্যায় প্লাবিত হবে এবং উপকূলীয় জেলায় ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষ স্থানচ্যুত হবে।

দীর্ঘ পরিসরে, জলবায়ু পরিবর্তনের সামগ্রিক প্রভাবগুলো মাঝারি জলবায়ু পরিবর্তনের পরিবেশে ১.৩ শতাংশ হারে এবং চরম জলবায়ু পরিবর্তনের পরিবেশে ২.০ শতাংশ হারে জিডিপি হ্রাস পাবে। তা ছাড়া বাংলাদেশের সামনে আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো— এখনো দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া, পরিবেশ সুরক্ষা, বিশ্বায়নের প্রভাব এবং টেকসই সামষ্টিক অর্থনীতি নিশ্চিত করা। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য একটি সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন ও বর্ধিত পানির চাহিদার কারণে উজানে অবস্থিত দেশগুলোর বাঁধ নির্মাণের পরিণামে পানিচক্রের অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যায়, যার ফলে ভবিষ্যতে পানি ব্যবস্থাপনা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেশকিছু স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি খাতভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা করে প্রবৃদ্ধিতে ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন বহুখাতভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও সমন্বিত নীতি ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশ প্রধানত পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীবাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদী ভাঙন আমাদের নিত্যসঙ্গী। এর সঙ্গে রয়েছে পানি ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা, ভূমিধস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জগুলো প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট। আমাদের দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবর্তিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। উন্নত দেশ হতে হলে আগামী প্রায় দুই দশকের অধিক সময়ের জলবায়ুজনিত অনিশ্চয়তাকে উদাসীনভাবে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ নেদারল্যান্ডস সরকারের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র উপস্থিতিতে ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার এবং নেদারল্যান্ডস সরকারের মধ্যে এতদসংশ্লিষ্ট একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৪ সালে পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ব-দ্বীপ পরিকল্পনা গ্রহণকারী বাংলাদেশ হচ্ছে নেদারল্যান্ডের পরেই বিশ্বে দ্বিতীয় দেশ।

ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনা এ দেশে বহু আগে থেকেই একটি রাজনৈতিক ও উন্নয়ন এজেন্ডা হিসাবে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাক-স্বাধীনতার সময়ে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের দাবি ছিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কৃষি সেচের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এর প্রধান কারণ ছিল তত্কালীন সময়ে এ ব-দ্বীপ অঞ্চলে চরম দারিদ্র্য বিরাজমান ছিল। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সেচ ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলেন এবং তিনি ‘ক্রুগ মিশন’ প্রতিবেদন বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধু ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন যার বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ— যেমন সাইক্লোন, বন্যার হাত থেকে জানমালের নিরাপত্তা প্রদান ও ক্ষতি হ্রাস করে একটি দুর্যোগসহিষ্ণু দেশ গড়ে তোলা। তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘ক্রুগ মিশন’ প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করেন। তাছাড়া, তিনি বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সেচ ব্যবস্থা কার্যক্রম বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের পানি ও বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডকে দুটি আলাদা সংস্থায় বিভক্ত করেন। তিনি আন্তঃনদী পানি সমস্যা সমাধানে বিশেষভাবে আগ্রহী ও উদ্যোগী ছিলেন এবং ১৯৭২ সালে স্থায়ীভাবে যৌথ নদী কমিশন গঠন করেন। বঙ্গবন্ধু উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘মুজিব কেল্লা’ নামে মাটির দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন— যার উদ্দেশ্য ছিল উপকূলীয় বন্যা ও সাইক্লোনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে তাদের গৃহপালিত পশুসহ আশ্রয় প্রদান করা। পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণীত হয়— যাতে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উল্লিখিত সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার বেশ কিছু কৌশল ও নীতি এখনকার সময়ের পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক, যা সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বন্যা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা নিরূপণে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে।

বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০কে একটি কারিগরি অর্থনৈতিক, দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত ও সার্বজনীন পানি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রিক পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। একটি অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ দেশি-বিদেশি জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও উত্তমচর্চা গ্রহণপূর্বক সম্পূর্ণ দেশজ মেধায় গত চার বছর ধরে এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং সীমিত পানিসম্পদকে কাজে লাগিয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ পরিকল্পনায় তুলে ধরা হয়েছে। এ মহাপরিকল্পনাটিতে পানিসম্পদ খাতের বিভিন্ন কৌশলকে সংযুক্ত করে সারা দেশের জন্য একটি একক পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা এই মহাপরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

একুশ শতকের শেষ নাগাদ ‘নিরাপদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতসহিষ্ণু সমৃদ্ধশালী ব-দ্বীপ’ গড়ে তোলাই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর রূপকল্প। পানি, জলবায়ু, পরিবেশ ও ভূমির টেকসই ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন এবং চরম দারিদ্র্য দূরীকরণসহ ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-তে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অভীষ্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনাটি সমন্বিত ও অভিযোজিত কৌশল নির্ধারণ ও ন্যায়সঙ্গত সুশাসন গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশে দীর্ঘমেয়াদি পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, নদী ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলা নিশ্চিত করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের সূচক এ মহাপরিকল্পনায় রূপায়ণ করা হয়েছে।

নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে প্রতিবছর মোট দেশজ আয়ের ২.৫ শতাংশ পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে যার মধ্যে ২ শতাংশ সরকারি খাত হতে এবং অবশিষ্ট ০.৫ শতাংশ বেসরকারি খাত হতে নির্বাহ করা হবে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর বিভিন্ন দৃশ্যকল্পে বর্ণিত জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের বিপরীতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ সামগ্রিক সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। কর হতে প্রাপ্ত অর্থ, সুবিধাভোগীদের নিকট হতে আহরিত অর্থ এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডসহ বৈদেশিক অর্থায়নের সমন্বয়ে সরকারি তহবিলের জোগান কৌশল নির্ধারিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কারিগরি সহযোগিতায় ব-দ্বীপ বিনিয়োগ পরিকল্পনা যাচাইবাছাই শেষে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য প্রথম পর্যায়ে মোট ৮০টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। তন্মধ্যে ৬৫টি প্রকল্প নদী ব্যবস্থাপনাসহ ভৌত অবকাঠামো সংক্রান্ত এবং ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা বিষয়ক প্রকল্প। এ সকল প্রকল্পে মোট মূলধন বিনিয়োগ ব্যয় ২৯৭৮ বিলিয়ন টাকা (প্রায় সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার)। সমন্বিত ও ব্যাপক পরামর্শের ভিত্তিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব-দ্বীপ বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও বিনিয়োগ পরিল্পনা। ব-দ্বীপ বিনিয়োগ পরিকল্পনার সুপারিশ অনুযায়ী ৬টি হটস্পটে ‘পরে অনুশোচনা নয়’ এবং প্রাকৃতিক সহ-অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নদীকে সবসময় প্রবহমান রাখার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ মহাপরিকল্পনায় উল্লিখিত ৬টি হটস্পট হলো: (১) উপকূলীয় অঞ্চল, (২) বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, (৩) হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকাসমূহ, (৪) পার্বত্য চট্টগ্রাম, (৫) নদী অঞ্চল ও মোহনা এবং (৬) নগর এলাকাসমূহ। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন চূড়ান্ত করতে প্রায় চার বছর সময় লেগেছে। এই মহাপরিকল্পনা ভবিষ্যত্ প্রজন্মগুলোর জন্য বর্তমান প্রজন্মের একটি শ্রেষ্ঠ উপহার।

n লেখক : সদস্য (সিনিয়র সচিব),

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন