কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার’। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরনোর আগেই উপজেলা সদরের কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণে পাড়া-মহল্লাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উপজেলা সদরের ডিআর উচ্চ বিদ্যালয় ও কাজী নোমান আহম্মেদ ডিগ্রী কলেজকে ঘিরে সক্রিয় বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং। আতঙ্কে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সম্প্রতি কিশোর গ্যাং গুলো জন্মদিনের নামে জোর করে গাছ অথবা ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ডিম, আটা মাথায় মাখিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরিক নির্যাতন করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্যাতনের শিকার একাধিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুরাদনগর ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম, ১০ম শ্রেণি ও কাজী নোমান আহম্মেদ ডিগ্রী কলেজের কিছু ছাত্র গ্যাং গ্রুপ তৈরি করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। গ্যাং গ্রুপের কিছু অভিভাবক প্রভাবশালী ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে অপরাধ করলেও কেউ এদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না। আইনের আশ্রয় নিতেও ভয় পাচ্ছেন। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসব কিশোর ধরা পড়লেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক দলের নেতারা।
আরও পড়ুন: ১৯ হাজার গ্র্যাজুয়েটের সমাবর্তন দিতে প্রস্তুত জবি
এ বিষয়ে ডিআর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান ও কাজী নোমান আহম্মেদ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সাদেকুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি আমাদের জানান নেই। খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মনজুর আলম বলেন, গ্যাংস্টার গ্রুপের সদস্যরা ছোটখাটো অপরাধ করতে করতে বড়ো ধরনের অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। অভিভাবকরা সন্তানদের ব্যাপারে একটু খোঁজ-খবর রাখলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অভিযুক্ত ও তাদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে প্রাথমিক ভাবে সর্তক করা হবে। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিষেক দাশ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যদি কেউ এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। আমরা স্কুল ও কলেজ প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ইত্তেফাক/এসি