পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা জোরেশোরে চলছে এলাকার সর্বত্র। আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী এসএম শাহজাদা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার অনেক আগে থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ শুরু করেন। এখন মিছিল, মিটিং, সভা, সমাবেশসহ নির্বাচনী প্রচারণায় অনেক এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী মাঠ দখলে রয়েছে তাদের। অপরদিকে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে অনুপস্থিত থেকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর এলাকায় এসেছেন। এ কারণে বিএনপি দলীয় ঘর গুছিয়ে মাঠে প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে রয়েছে।
আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত পটুয়াখালী-৩ আসন ১৯৭০ সাল থেকে এ পর্যন্ত (১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাদে) তিনবার আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়। প্রথম হাতছাড়া হয় ১৯৭৯ (সালে) ’৭৯ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির অধ্যাপক আবদুল বাতেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন ও ইয়াকুব আলী চৌধুরী এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মোঃ শাহজাহান খান এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আখম জাহাঙ্গীর হোসাইনকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়ন দিলে তিনি আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দুই দফায় তিনি আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হন। শেষবারে তাকে বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০০৮ সালে এখানে গোলাম মাওলা রনিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি নির্বাচিত হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন।
এবারের নির্বাচনে এই আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে নতুন মুখ এসএম শাহজাদা। অপরদিকে গোলাম মাওলা রনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। অপর দুজন প্রার্থী হলেন— জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে মোঃ সাইফুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে কামাল খান।