কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পুষ্করিনীরপাড় এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নকল পণ্য তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে কুমিল্লা র্যাব-১১ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার রাতে ওই বাড়িতে হুমায়ুন সোপ ফ্যাক্টরি নামের ওই কারখানায় অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ দামি ব্র্যান্ডের গায়ের সাবান, কাপড় কাচা সাবান, পাউডার, সুজি, নুডুলস, টয়লেট ক্লিনার ও চায়ের পাতিসহ প্রায় ৪৫ ধরনের নকল পণ্য উদ্ধার করা হয়।
এ সময় মেসার্স হুমায়ুন সোপ ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী ও পুষ্করিনীরপাড় গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে সবুজ মিয়াকে (৪০) আটক করে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কুমিল্লার জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে এলাহি এ রায় দেন।
আরো পড়ুন: মুক্তাগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চিকিৎসাধীন কলেজছাত্রের মৃত্যু
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিষেক দাশ, কুমিল্লা র্যাব-১১ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব, স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মহিতুল ইসলাম, বাঙ্গরা বাজার থানার এসআই ফকরুল ও চাপিতলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কাজী তাজুল ইসলামসহ র্যাবের প্রায় ২০ সদস্য।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে এলাহি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার র্যাব-১১ ও বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পুষ্করিনীরপাড় এলাকায় হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাড়ির ভেতরে নকল পণ্য তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং অ্যান্ড ইন্সটিটিউটের (বিএসটিআই) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই নকল পণ্য উৎপাদক করে আসছিলো। অভিযানে ওই কারখানা থেকে প্রায় ৪৫ ধরনের নকল পণ্য ও পণ্য উৎপাদনের মেশিন পাওয়া যায়।
তিনি আরো জানান, নকল পণ্য উৎপাদন করায় কারখানা মালিক সবুজ মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে পুরো কারখানা জব্দ করে বাঙ্গরা বাজার থানার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। মহামান্য আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এটি বাঙ্গরা বাজার থানার জিম্মায় থাকবে বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এএএম