তারুণ্যের জয়গান

চিত্রকলায় গবেষণাধর্মী ছবি নিয়ে আরো কাজ করতে চান সুমন

ছোটবেলা থেকেই চিত্রকলায় বিশেষ ঝোঁক ছিল সুমন ওয়াহিদের। একটু বড় হয়ে সে ঝোঁক আরো বেড়ে যায় কয়েক গুণ। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হয় সুমন আর্ট এন্ড পেইন্টিংকেই বেছে নেন। পরিবারের সদস্যরা তাতে একটু নিমরাজি ছিল। কিন্তু দিনের পর দিন তার ভালো ফলাফল, পত্রিকার পাতায় সাফল্যের ছবি, স্নাতক সম্মানে রেকর্ড নম্বর নিয়ে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকপ্রাপ্তি সবাইকে আশ্বস্ত করে।

একজন শিল্পী হিসেবে সুমনের এগিয়ে চলায় তার পরিবারের সদস্যরা খুশি। এজন্য অবশ্য তাকে পরিশ্রম আর অনেক প্রতিবন্ধকতা পার করতে হয়েছে। সুমন যে শুধু দেশে ভালো ফলাফল করেছেন তা নয়, স্নাতক সম্মান শেষ করে তিনি আইসিসিআর স্কালারশিপ নিয়ে পেইন্টিংয়ে স্নাতকোত্তর করতে যান শান্তিনিকেতনে। শান্তিনিকেতনেও একই বিভাগে সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম হন সুমন।

দেশে পড়ার সময় পিআইবি কার্টুন প্রতিযোগিতার প্রথম আয়োজনেও প্রথম হন তিনি। আমিনুল ইসলাম ট্রাস্ট স্কালারশিপ পান দু’বার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভস্ট সম্মননাসহ অনেক সম্মাননাই তিনি অর্জন করেন। দেশে অসংখ্য সম্মিলিতচিত্র প্রদর্শনীসহ ভারত, নেদারল্যান্ড, জাপানে প্রদর্শনীতে তার চিত্রকর্ম স্থান করে নেয়। আগামী বছর পোল্যান্ডে চিত্রপ্রদর্শনী করবেন বলে প্রস্তুতি চলছে। আর এখন তার একটু গবেষণার্ধমী ছবি আঁকতে বেশি ভালো লাগে বলে জানান। গবেষণাধর্মী ছবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান- এবছর আগস্টে জয়নুল আর্ট গ্যালারিতে আমার ‘এ টু জেট জয়নুল’ শীর্ষক একক প্রদর্শনী হয়। এখানে আমি জয়নুলের নানা রকম ছবি নিয়ে গবেষণা করি। প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে অনুশীলন করে আমি ছবিগুলো দাঁড় করাই। একজন শিল্পীর ক্যারিয়ার আর শিল্পজীবন এখন আমাদের দেশে কতটা নিরাপদ এমন প্রশ্নের জবাবে সুমন বলেন, এখন অনেক রকম সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে একজন শিল্পী কিভাবে কাজে লাগাবে; নিজে কিভাবে তৈরি হবে সেটা একটা বিষয়। এখন শুধু দেশের চিত্রশিল্প নয়, বরং বিশ্ব চিত্রশিল্পের ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ আছে। সেই কাজে সে কিভাবে অংশগ্রহণ করবে তা তাকেই ঠিক করতে হবে। বর্তমানে চারুকলা অনুষদের প্রভাষক সুমন ওয়াহিদের কাছে জানতে চাই তার শিক্ষার্থীদের অবস্থান আর তার স্বপ্ন নিয়ে। সুমন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ডের অংশ হতে গিয়ে অনেকে আগ্রহ না থাকলেও চারুকলা অনুষদে ভর্তি হন। কারো কারো শিখতে শিখতে আগ্রহ হয়, কেউ আবার সেভাবে আগ্রহ অনুভব করে না। নিজেকে শিক্ষক হিসেবে সমৃদ্ধ করে শিক্ষকতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আর চিত্রকলায় গবেষণাধর্মী ছবি নিয়ে কাজ করাই এখন সুমন ওয়াহিদের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা।