রাখাইনে আবারো নিধন অভিযান শুরু করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, সংঘাতপূর্ণ রাখাইন অঞ্চলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের চার জনের ওপর হামলা এবং দুই জন নিহত হওয়ার পর নতুন করে অভিযান শুরু হয়েছে বলে সেনা প্রধানের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় রোহিঙ্গারা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাখাইনের মংডু শহরের পিয়ু মা ক্রিক এলাকায় ওই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় গত বছর রক্তক্ষয়ী অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইংয়ের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, সেনারা আবারো সক্রিয় হয়েছে এবং পিয়ু মা ক্রিক এলাকায় নিধন অভিযান চালাচ্ছে। এতে বলা হয়, মাছ ধরতে গিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দুই জন আর ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে তাদেরকে গলা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। একইদিন ‘বাংলাভাষী’ ছয়জনের হামলার শিকার হন আরো দুই জন।
রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দেওয়ার দাবি মার্কিন সিনেটরদের
রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটররা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র প্রতি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের ওই গ্রুপটি বুধবার এ আহ্বান জানান। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নিধন অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে কমপক্ষে ৭ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই নৃশংসতার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি লিখেছেন সিনেটররা।
রয়টার্সের হাতে আসা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব রিপোর্টে গণহত্যার ব্যাপক ও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তা সত্ত্বেও গণহত্যা চালানো হয়েছে মর্মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করেনি। এতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে আসার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিনেটররা বলেন, রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাস ছড়ানো হয়েছে, বাড়িঘর থেকে উত্খাত করা হয়েছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।