চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজ নির্মাণ এখনো শুরু হয়নি। চার বছরেও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ধীরগতি চলছে বলে মনে করছেন এখানকার আমদানি-রপ্তানি কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত স্টেকহোল্ডাররা।
প্রবাসীদের ব্যাগেজ এবং চট্টগ্রামে ইপিজেডসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শিল্পকারখানার জরুরি পণ্য আকাশপথে আনা-নেওয়া এবং সেগুলো যথা সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি কার্গো ভিলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা গত প্রায় এক দশক আগে থেকে অনুভূত হয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান। কিন্তু এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কথা ও কাজে বিস্তর ফারাক রয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, এটি এখন জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণ করে চালু করা প্রয়োজন। কারণ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে এই বিমানবন্দর দিয়ে আকাশপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ও ডেলিভারি হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। কার্গো ভিলেজ না থাকায় এটি একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়া সত্ত্বেও এখানে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের কাজে গতিশীলতা আসছে না। শুধু তাই নয়, কার্গো ভিলেজ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আমদানি-রপ্তানি পণ্য কার্গো টার্মিনালের মাধ্যমে হ্যান্ডলিং হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিচারে সঠিক নয়। তার ওপর পণ্যের মান সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও এক্ষেত্রে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আছে। তিনি বলেন, এখানে একটি কার্গো ভিলেজ অনতিবিলম্বে হতেই হবে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সরোয়ার-ই-জামান ইত্তেফাককে বলেন, এখানে কার্গো ভিলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। এর প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ভূমি অধিগ্রহণের প্রথম প্রক্রিয়া ২০১৬ সালে শুরু করা হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে ৬৬৫ একর ভূমি এসেছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে আরো ভূমি লাগছে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা বেসামরিক বিমান পরিবহন (সিভিল এভিয়েশন) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরো ৪০০ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বরাবর সম্প্রতি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই ভূমিটুকু হাতে এলে কার্গো ভিলেজের জন্য ভবন নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে। সেই সঙ্গে টার্মিনাল সম্প্রসারণের কাজও সম্পাদন করা যাবে।
অপর একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের সামনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণসহ কার্গো ভিলেজ প্রতিষ্ঠার পূর্ববর্তী টার্গেট টাইম ছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস। কিন্তু এই সময়ের প্রায় আড়াই বছর অতিক্রান্ত হলেও নির্মাণকাজ শুরুর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিমানবন্দরের কার্গো ম্যানেজার ওমর শরিফ ইত্তেফাককে বলেন, এখানে কার্গো ভিলেজ প্রতিষ্ঠায় যে সংস্থা ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছিল, তারা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরেছিল বলে শুনেছি। কার্গো ভিলেজ প্রতিষ্ঠার অর্থ হচ্ছে এখানে কাস্টমসের একটি পূর্ণাঙ্গ শাখা থাকবে, যেখানে শুল্কায়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম হবে, থাকবে নিরাপত্তা শাখাসহ বিভিন্ন বিভাগ, যা একটি আলাদা ‘হাব’ হিসেবে কাজ করবে পুরো এস্টাবলিশমেন্টের অধীনে।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রহর অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আবুবক্কর ইত্তেফাককে বলেন, এই বিমানবন্দরে ২০০২ সালে প্রথম কার্গো হ্যান্ডলিং শুরু করা হয়। তবে বিজনেস ফ্লাইট না থাকায় চীন, ভারত ও হংকং থেকে বিভিন্ন সংস্থার উড়োজাহাজে ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য আনা যাচ্ছে না। শুধু বিমান সংস্থা ইত্তিহাদ এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্য চট্টগ্রাম আনছে। আর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে কাঁচা শাকসবজি এবং এ ধরনের পণ্য পরিবহন করে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলো।
ইত্তেফাক/বিএএফ