স্পোর্টস রিপোর্টার
শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল অব্দি মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃহস্পতিবার রাতে ৩৬ রানের জয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল দিনটা বিশ্রামেই কাটিয়েছেন সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালরা।
ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে অনেক পাওয়ার সিরিজের শেষ প্রান্তে চলে এসেছে বাংলাদেশ। টেস্ট, ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজটা এখন ১-১ সমতা বিরাজ করছে। আজ তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটা হয়ে পড়েছে সিরিজ নির্ধারণী লড়াই। মিরপুর স্টেডিয়ামে ম্যাচটা জিতেই সিরিজ শেষ করতে চায় বাংলাদেশ। একইভাবে আজকের ম্যাচ টাইগারদের জন্য বছরের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তাই জয়ে বছরের শেষটাও রাঙাতে চায় সাকিব বাহিনী।
গতকাল টিম হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিন কোচ সুনীল যোশি এমনটাই বলেছেন। জয় ভিন্ন কিছু ভাবছে না বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় জেতাটাই জরুরি। আমার মনে হয় গতকাল (বৃহস্পতিবার) যেসব ক্ষেত্রে আমরা ভালো করেছি সেসবের দিকেই মনোযোগী হওয়া দরকার। একইভাবে আমরা ভালো কাজগুলোই করে যেতে চাই এবং ভালোভাবে সিরিজটা শেষ করতে চাই।’
গোটা দেশকেও নতুন বছরের জন্য জয় উপহার দিতে চায় বাংলাদেশ দল। সুনীল যোশি বলেছেন, ‘আগামীকাল (আজ) যদি ইতিবাচক অবস্থানে থেকে শেষ করতে পারি সেটা হবে ক্রিসমাসের এবং নতুন বছরের উপহার।’
গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সেন্ট কিটসে প্রথম ম্যাচে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ফ্লোরিডায় শেষ দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছিল সাকিবের দল। এবার বাংলাদেশেও ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে একই দৃশ্যের মঞ্চায়ন হবে বলে আশা করছেন টাইগার অধিনায়ক। সিলেটে প্রথম ম্যাচে হারলেও বৃহস্পতিবার দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা।
বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফ্লোরিডার পুনরাবৃত্তি সম্পর্কে সাকিব বলেছিলেন, ‘সম্ভাবনা তো আছে। আর আমি আজ (বৃহস্পতিবার) ম্যাচ শুরুর আগে বলেছি এই কন্ডিশনটা ওদের থেকে আমাদের বেশি সুবিধাজনক হওয়া উচিত। আমরা এখানে সবসময় ম্যাচ খেলি, আমাদের প্রতিটা প্লেয়ার অসংখ্য ম্যাচ খেলেছে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে, আমাদের জন্য এই মাঠ অনেক পরিচিত।’
মিরপুরের দর্শকদের সমর্থনও উদ্দীপ্ত করে দলকে। সাকিব বলেছেন, ‘সাপোর্টটা খুব গুরুত্বপূর্ণ থাকে মিরপুরে। দর্শকদের উপস্থিতি অন্য রকম পরিবেশ তৈরি করে। আমার কাছে মনে হয় এটাও অনেক পজেটিভ একটা দিক, পরের ম্যাচের আগে।’ বৃহস্পতিবার প্রথমে ব্যাট করে চার উইকেটে ২১১ রানের বড় স্কোর গড়েছিল বাংলাদেশ। লিটন দাসের ৬০ রানের ইনিংসের সঙ্গে সৌম্যর ৩২, মাহমুদউল্লাহর অপরাজিত ৪৩, সাকিবের অপরাজিত ৪২ রানই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল। পরে বল হাতে সাকিবের ঘূর্ণিতে ১৭৫ রানে অলআউট হয়েছিল উইন্ডিজরা। ২০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
আজ তৃতীয় ম্যাচেও একই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা আশা করছেন স্পিন কোচ সুনীল যোশি। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় আমরা খুব ভালো খেলেছি। মনোভাবটা ভিন্নরকমের ছিল। সিলেটে আমরা যেমন মনোভাব দেখিয়েছিলাম এবং যেভাবে মিরপুরে গতকাল (বৃহস্পতিবার) যেমন দেখিয়েছি তা ছিল দারুণ। অবশ্যই দল এখন জয়ের পর খুব সন্তুষ্ট বোধ করছে।’