তরুণরা কাকে কেন ভোট দেবে?

ভোট একজন নাগরিকের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই ভোটের মাধ্যমে নাগরিক তার ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষমতা একজনকে দিয়ে দিচ্ছেন। আমাদের দেশে এখন সেই ক্ষমতার দেওয়া-নেওয়ার সময় চলছে। এবারের ভোটের বৃহদাংশ তরুণ এবং এবারের ক্ষমতায়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই তরুণরা  কাকে ভোট দেবে কী বিবেচনা করে তা জানা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল তাদের নানামুখী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। একজন তরুণ তার দাবি-দাওয়া সবকিছু বিবেচনা করেই ভোটকেন্দ্রে যাবে ভোট দিতে। এর ওপর তাদের ভবিষ্যত্ জড়িত। তরুণরা যাকে তাকে ভোট দিয়ে তাদের ভাগ্যের দায়িত্ব তুলে দিতে পারে না।

এবার তরুণ নতুন ভোটারের সংখ্যা ২ কোটির ওপরে। এই দুই কোটি ভোটার এবারই প্রথম তাদের জীবনের প্রথম ভোট দেবে। তারা কী দেখে ভোট দেবে এবং দেওয়া উচিত সেটাই এখন পর্যালোচনার বিষয়। আমরা তরুণরা চাই ভিন্ন কিছু। সবাই বলছে ‘মার্কা দেখে ভোট দিন। মার্কায় ভরসা রাখুন।’ দ্বিমত এখানেই। আমরা কোন মার্কায় ভরসা করব?

একজন তরুণ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রধান তিনটি জিনিসকে প্রাধান্য দেবে। প্রথমেই দেখবে জাতীয় ইশতেহারের পাশে তরুণদের জন্য কী আছে, তাদের এলাকার জন্য স্থানীয় প্রার্থীর ইশতেহার কী? সেই প্রার্থী  স্থানীয় এলাকার জন্য কী করবেন, কতটুকু তিনি সক্রিয় এবং তার সক্ষমতা এসব ইশতেহার আছে কি না, এবং থাকলে কারটা ভালো?

দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি হিসাবে প্রার্থীরা কেমন। তাদের যোগ্যতা কী। তারা জনগণের পাশে ছিলেন কি না, তারা কী করেছেন। একটি জিনিস অবশ্যই অবশ্যই দেখবে তা হলো প্রার্থীর যোগ্যতা। এই যোগ্যতার মাপকাঠি দুটি— এক তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কী, তিনি স্বশিক্ষিত হলে তার প্রভাব কতটা এ যাবত্ সমাজে দেখিয়েছেন। এবং দুই তিনি বিগত সময়গুলোতে তরুণদের সঙ্গে, জনসাধারণের সঙ্গে ব্যক্তি হিসাবে কেমন ছিলেন—কী আচরণ করেছেন, কী কাজ করেছেন।

তৃতীয় যে বিষয়টি তরুণরা বিবেচনা করবে তা হলো প্রার্থী হিসাবে ব্যক্তি যদি স্বতন্ত্র হন তবে তার বিগত সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাস কী, কেমন ছিলেন। আর যদি দলীয় হন তবে তার দলের কর্মকাণ্ড কী ছিল, কী আছে, দলীয় ইশতেহার কী এবং সর্বোপরি যে জিনিসটি দেখবে তিনি দলের সঙ্গে কতটা ছিলেন, দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও দলের উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। কেননা সে ব্যক্তি যদি তার দলে সক্রিয় না থাকেন, দলের পাশে না থাকেন তবে জনগণের পাশে কী করে থাকবেন!

তরুণরা জাতির কর্ণধার। তরুণরাই জাতির পথপ্রদর্শক। তাই তরুণরা ভেবেচিন্তে ভোট দেবে, দেওয়া উচিত। কোনো দলের পক্ষ হয়ে অন্ধভাবে ভোটদানে বিরত থাকা এবং বিরত রাখার জন্য তরুণদের সক্রিয়তা খুবই জরুরি। তরুণ হিসাবে, একজন সুনাগরিক হিসাবে তরুণরা যাকে তাকে তাদের ভোট দিতে পারে না। উল্লিখিত জিনিসিগুলো বিবেচনা করেই তারা ভোট দেবে। সেজন্য অবশ্যই একজন প্রার্থীর তরুণদের জন্য, স্থানীয় জনগণের জন্য উদ্যোগ বিবেচনায় এনেই তরুণরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

পরিশেষে, তরুণ ভোটারদের বলতে চাই—তারা ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোটকেন্দ্রে এই নীতি মাথায় নিয়ে যাক, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব, বিচার-বিবেচনা করে সুষ্ঠু ভোটদানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়