দক্ষিণাঞ্চলে বাড়ছে শীতের তীব্রতা

গরম পোশাক ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি কেনার হিড়িক

শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস

দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে শীত বাড়তে শুরু করায় জমজমাট হচ্ছে গরম পোশাকের মার্কেটগুলো। শীত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে শুরু করেছে শীতবস্ত্র ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির দাম। মেঘলা আবহাওয়ার পর গত কয়েকদিন ধরেই হাড় কাঁপানো শীত পড়তে শুরু করে। এতে দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে  মেঘনা তীরবর্তী হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মীর্জাগঞ্জ ও ভোলার বেড়িবাঁধে ছিন্নমূল মানুষ শীত যন্ত্রণায় কাতরাতে শুরু করছে। এ সব এলাকার ছিন্নমূল মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা করে। একটু উষ্ণতার আশায় তাদের প্রতিক্ষা করতে হয় ভোরের সূর্য উঠার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। নদীবেষ্টিত চরগুলোতে শীতবস্ত্র এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ চরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেড়েই চলছে। গ্রাম-গঞ্জের লোকজন তাই শীতের পোশাক ক্রয় করার জন্য ভিড় করছেন নগরীর মহসিন মার্কেটসহ জেলা পরিষদ পুকুরের পাড়ে ও সিটি করপোরেশনের সম্মুখভাগের অস্থায়ী শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে। বসে নেই বিত্তবানরাও তারা নগরীর শপিং মল ও বিপণী বিতানগুলো থেকে প্রয়োজনের শীতের পোশাক ক্রয় করছেন। শীতের পোশাক বিক্রির মার্কেটগুলোতে শহুরে মানুষেরও ভিড় বাড়তে শুরু করছে।  নগর জীবনেও শীতের তীব্রতা কয়েকদিন যাবত্ বেড়েই চলছে।

চরাঞ্চলের মানুষের মতই নগরীর ছিন্নমূল মানুষের এ চলমান শীতে দুর্ভোগ বেড়েছে। নগরীর  লঞ্চঘাট, নতুল্লাবাদ, রূপাতলী বাস টার্মিনালে থাকা ছিন্নমূল মানুষদের পোশাক কেনার জন্য মার্কেটে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। অথচ তাদেরই বেশি গরম পোশাক দরকার। তারা ফুটপাত থেকে গরম পোশাক ক্রয় করছেন। ধনী-গরীব কেউ শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা শীত থেকে বাঁচার জন্য প্রস্তুতি নিতে নামি-দামি মার্কেটে ছুটছেন। গরম পোশাকের পাশাপাশি  তারা উষ্ণতাবর্ধক রুম হিটারসহ পানি গরম করার নানা ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করছেন। শীতবস্ত্র ব্যবসায়ী ও ইলেকট্রিক ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতে চরা দামেই এসব পণ্য বিক্রি করছেন। গরম পোশাকের মার্কেট বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গত কয়েক বছরে এখানে ইলেকট্রিক ব্যবসার বেশ প্রসার ঘটেছে। প্রতি বছর শীত এলেই বাড়ে এ সব ইলেকট্রিক সামগ্রির দাম। এবার  মৌসুমের শুরুতে একেকটি হিটার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকায়। এ সব হিটারের সাহায্যে পানি গরম থেকে শুরু করে কক্ষ গরম করার সুবিধা রয়েছে। ভারত, চীন, জাপানসহ নানা দেশ থেকে আমদানি করা এসব হিটারে বিদ্যুতের ব্যাপক অপচয় হলেও সৌখিন ক্রেতা ও বিত্তবানরা তা ক্রয় করছেন। বাসা-বাড়ির পাশাপাশি আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে হরদম এ সব জিনিসপত্র ব্যবহার হচ্ছে। বিদ্যুত্ বিল নিজেদের পরিশোধ করতে হয় না বলে কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীরা একই কক্ষের জন্য কয়েক জনে মিলে একটি রুম হিটার কিনতে কার্পণ্য করছে না। রুম হিটারে প্রতিটি রুমের জন্য মাসে ৮শ’ থেকে হাজার টাকা বিদ্যুত্ বিল খরচ হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এর মধ্যে ১৪শ’ থেকে সর্ব্বোচ ৬ হাজার টাকা দামের রুম হিটার বিক্রি হচ্ছে নগরীর ইলেকট্রিক মার্কেটগুলোতে। 

কাঠপট্টি, গীর্জামহল্লা, সদর রোড ও মহসিন মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে গরম পোশাক বিক্রির ধুম পড়ে গেছে। কাঠপট্টি রোডের ইলেকট্রিক মার্কেটগুলোতে পানি গরম করার হিটারও বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন শীত পড়তে শুরু করায় বিদেশি গরম পোশাক ও ইলেকট্রিক জিনিসপত্রের বিক্রি বেড়েছে।

আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক ইউসুফ আলী জানান, সাগর সংলগ্ন দক্ষিণ উপকূলে নিম্নচাপের ফলে মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছিল ফলে গত ৪/৫ দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। গত বৃহস্পতিবার থেকে মেঘমালা কেটে গেলেও শৈত্যপ্রবাহের দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত কয়েক বছর যাবত্ শীতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহ বেশি পরিমাণে পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ৮/১০ বছর ধরে প্রতি বছর শীত মৌসুমে গড়ে ৪/৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে। যা অতীতে কখনো হয়নি।