জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কাজ মানেই উন্নয়ন ধারায় নিজেদের সম্পৃৃক্ত করা, তথা সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিতে হবে।
তিনি গতকাল পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের চণ্ডীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী বিরাট জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। পিরোজপুর-২ আসনে (ইন্দুরকানি-ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী) ১৪দলের শরিক জাতীয় পার্টি-জেপি’র মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ সময় উপস্থিত হাজারও মানুষের কাছে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক বাইসাইকেল মার্কায় ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর মনোনীত ও সমর্থিত জোট-মহাজোট বিপুল সংখ্যাধিক্যে বিজয়ী হবেন এবং ইনশাআল্লাহ তিনিই পুনরায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। দেশে চলমান উন্নয়ন ধারাকে অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনা ও জোটের প্রার্থীদের ভোট দেওয়া জনগণের দায়িত্ব ও সময়ের দাবি। এই দায়িত্ব পালনের জন্য সকলকে দলে দলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে। পুরুষ ভোটাররা যেমন নিজেরা কেন্দ্রে যাবেন পাশাপাশি নারী ভোটারদেরও ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। নারী-পুরুষের ভোটের এই অধিকারকে সুসংহত ও নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য।
পিরোজপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টি-জেপি’র বাইসাইকেল প্রতীকে সংসদ সদস্য পদে নিজের প্রার্থিতার পক্ষে স্থানীয় ভোটারদের ভোট প্রার্থনা করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আজ গ্রামে-গঞ্জে নৌ-পথের পাশাপাশি রাস্তাঘাটও নির্মাণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা যেমন আবহমান বাংলার চলাচলের বাহন তেমনি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিকাশের ধারায় বাইসাইকেলও গ্রামবাংলায় যাতায়াতের বাহন হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ৩৩/৩৪ বছর ধরে সংসদ সদস্য ও ১৮ বছর ধরে মন্ত্রী পদে থেকে আমরা অবহেলিত দক্ষিণ অঞ্চলসহ সারা দেশে সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চালিয়ে যাচ্ছি। ১৯৯৬ সালে যোগাযোগ মন্ত্রী থাকাকালে এবং এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুত্ উন্নয়নসহ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরিতে আমাদের বিশেষ অবদান ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৯ সালে পিরোজপুরের বলেশ্বর সেতুর উদ্বোধনের দিনই ঝালকাঠির গাবখান সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং পরে সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এ সময়ই কঁচানদীতে আরেকটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ও সমীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সরকার এ কাজটি না করলেও এখন শেখ হাসিনার সরকারই বেকুটিয়ায় সেতুটি নির্মাণ শুরু করেছে এবং আমি এ সময়ও মন্ত্রিসভার একজন সৌভাগ্যবান সদস্য। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এই ইন্দুরকানি এলাকার টগড়া-ইন্দুরকানি-চণ্ডীপুর-সন্ন্যাসী সড়কের নির্মাণকাজে আশির দশকের শেষে মাটির কাজ শুরু করে নব্বই দশকের শেষে নতুন করে প্রকল্প নিয়েছিলাম। যার অগ্রগতি বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি পুনরায় উদ্যোগ নিয়ে কার্পেটিং কাজ শেষ করা হয়েছে। ইন্দুরকানির বলেশ্বর সেতুর নির্মাণের সমীক্ষাসহ প্রাথমিক উদ্যোগ ছিল আমাদেরই।
পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে ইন্দুরকানিসহ দক্ষিণ অঞ্চলের বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের নির্মাণ ও মেরামত শুরু হয়েছে। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী থাকাকালে গত পাঁচ বছরে এই উপকূলীয় উপজেলাটির মানুষকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও ক্ষতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরিতে আমরা সচেষ্ট। বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল খনন-পুনর্খনন, বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে নলকূপ স্থাপন, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এ সময়কালে আমাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। আগামী জানুয়ারি মাসে ইন্দুরকানি এলাকায় আরও ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে, যার টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট না হলেও মানুষের এসব উন্নয়ন চাহিদা পূরণ করতে আমাদের এই প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি নির্মাণ বিভাগ ও ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে আমি মোটেই কার্পণ্য করি না।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত হয়। ইন্দুরকানিতে আমি গত ছয় বছর ধরে আসা-যাওয়া করি। গত ৩৩/৩৪ বছরে ভাণ্ডারিয়া-কাউখালীসহ দক্ষিণ অঞ্চলে মানুষ যে একতার পতাকা তলে সমবেত হয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের ধারায় চলতে শিখেছে তা ইন্দুরকানিতেও ছড়িয়ে দিতে হবে। আমি কখনও প্রতিহিংসা, মারমুখী রাজনীতি, মানুষকে এলাকা ছাড়া করা, মামলা-মোকদ্দমা, জেল-জুলুম তথা হয়রানি করার নীতিতে বিশ্বাসী নই। বিগত পাঁচ বছর এ এলাকার মানুষ শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপদ জীবন-যাপন করেছেন। ভাগ্যের পরিবর্তন চাইলে ঝগড়া-ফ্যাসাদ, মারামারি, হানাহানিসহ সকল সংঘাতমূলক কাজ থেকে বিরত থেকে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের পক্ষে সক্রিয় হতে হবে। আমি আল্লাহর হুকুমে এলাকার মানুষের খেদমতের জন্য কাজ করি।
বালিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি-জেপি’র উদ্যোগে আয়োজিত এ নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন বয়াতী। বক্তব্য রাখেন ইন্দুরকানি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক, উপজেলা জেপি’র মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের উপজেলা সহ-সভাপতি মাহমুদুল হক দুলাল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বজলুর রহমান মিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মাতুব্বর, উপজেলা জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম শাহীন, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান প্রমুুখ।
এ সময় মঞ্চে ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ইন্দুরকানি উপজেলা জেপি’র সাধারণ সম্পাদক ও বালিপাড়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মৃধা প্রমুখ।
জেপি চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল শুক্রবার রাতে ইন্দুরকানি উপজেলার পত্তার্শী ইউনিয়নের নিভৃত গ্রাম রামচন্দ্রপুরে হালদার বাড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে মতবিনিময় করেন। সমীর চন্দ্র হালদারের সভাপতিত্বে এখানে আরও বক্তব্য রাখেন পত্তার্শী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল হালদার, শিক্ষক চিত্তরঞ্জন হালদার প্রমুখ।