প্রথম টি-টোয়েন্টি
বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১৪১/৫
পাকিস্তান ১৯.৩ ওভারে ১৪২/৫
পাকিস্তান জয়ী : ৫ উইকেটে
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১৩৬/৭
পাকিস্তান ১৬.৪ ওভারে ১৩৭/১
পাকিস্তান জয়ী : ৯ উইকেটে
g স্পোর্টস রিপোর্টার
চলতি বছরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ। দেশত্যাগের আগে বাংলাদেশের হেড কোচ, অধিনায়ক, নির্বাচকরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পাকিস্তান সফরে বিশ্বকাপের দলটা খোঁজার চেষ্টায় থাকবেন তারা। কিছুটা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হবে। বিশ্বকাপের জন্য ১৬-১৭ জনের একটা স্কোয়াড দাঁড় করাতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। ক্রিকেট দুনিয়ার বাকি দেশগুলোও এখন একই লক্ষ্যে টি-২০ খেলছে।
রাসেল ডমিঙ্গো-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য খুবই বাস্তবসম্মত। কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলমান টি-২০ সিরিজে পরীক্ষার নামে যা হচ্ছে, তা খুবই দৃষ্টিকটু হয়ে পড়ছে। ব্যাটিং অর্ডার হয়ে পড়েছে হযবরল। অপরিপক্কতার পরিচয় দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। যার কারণে ব্যাটিংয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচেই ১৫০ পার হয়নি বাংলাদেশের স্কোর। ইতিমধ্যে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিন ম্যাচের সিরিজটাও খুইয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল।
লাহোরে প্রথম ম্যাচে ১৪১ রানের পর গতকাল তামিম ইকবালের হাফ সেঞ্চুরির পরও ১৩৬ রানের বেশি যেতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিং দৈন্য পোড়াচ্ছে সফরকারীদের। ব্যাটিংনির্ভর টি-২০ ক্রিকেটে নিরুত্তাপ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ম্যাচে ১৩টি চার ও ৩টি ছক্কা মেরেছিল বাংলাদেশ। গতকাল বাউন্ডারির সংখ্যা কমেছে। ১২টি চারের সঙ্গে ছিল ৩টি ছক্কা।
এদিকে ব্যাটিং অর্ডারটা পড়ছে হাস্যরসের খোরাক। পজিশন পরিবর্তন হচ্ছে নিয়মিতই। গতকাল যেমন সৌম্য সরকারের মতো প্রতিষ্ঠিত টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে নামতে হয়েছে সাতে! তাও টি-২০ তে। আগের ম্যাচে ব্যাট করেছিলেন ছয়ে। এসব পজিশন সৌম্যর ব্যাটিং সামর্থ্যের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। লিটন দাস প্রথম ম্যাচে তিনে, গতকাল চারে ব্যাট করেছেন। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ প্রথম ম্যাচে চারে, গতকাল ছয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন। গতকাল একাদশ থেকে বাদ পড়া মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন প্রথম ম্যাচে সাতে ব্যাট করেছিলেন।
মূলত বিপত্তিটা বেঁধেছে দলে অনেক ওপেনার থাকার কারণে। স্বীকৃত চার ওপেনার রয়েছেন একাদশে, বিপিএলসহ ধরলে পাঁচ জন। তামিম, নাঈম শেখ, লিটন, সৌম্য, আফিফদের ব্যাটিং করানোর ক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্টও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে পারছে না। বিশ্বকাপ বিবেচনায় নিজেদের পছন্দের জায়গায় স্থির থাকছে না। যার প্রভাব পড়ছে দলীয় সংগ্রহে। অনভ্যস্ত পজিশনে নেমে সুবিধা করতে পারছেন না ব্যাটসম্যানরা।
ওপেনিংয়ে পাঠানো হচ্ছে তামিম-নাঈম শেখকে। দুজনই ডট বলের চাপে চিড়ে-চ্যাপ্টা করে ফেলেছেন দলকে। পাওয়ার প্লের সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। টি-২০ র মারকাটারি ব্যাটিং সোনার হরিণ হয়ে পড়ছে। ইনিংসের শুরুতে সৌম্য-লিটনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সার্ভিসটা পাচ্ছে না দল। সহজাতভাবেই তারা দুজন মারকুটে ব্যাটসম্যান। সর্বশেষ বিপিএলেও টপঅর্ডারে ব্যাট করে লিটন ৪০০, সৌম্য ৩০০-র বেশি রান করেছেন। কিন্তু জাতীয় দলে এসে টপঅর্ডারেই জায়গা হচ্ছে না তাদের! লাহোরে লিটন দুই ম্যাচে ২০, সৌম্য ১২ রান করেছেন।
গতকাল অবশ্য একটা বাজিও ধরেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট, সেটা মেহেদী হাসানকে নিয়ে। এই অলরাউন্ডার বিপিএলে কয়েকটি ম্যাচে তিনে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছিলেন ঢাকা প্লাটুনের হয়ে। সেই ফর্মুলা কাজে লাগানোর চেষ্টায় সফলতা আসেনি। ১২ বলে ৯ রান করে আউট হন মেহেদী। দ্বিতীয় টি-২০ খেলতে নামা এই তরুণকে তিনে পাঠানোর কারণে লিটন-সৌম্যদের ব্যাটিং অর্ডার আরো নিচে নেমে গেছে। অথচ সৌম্য হতে পারতেন এই পজিশনে টিম ম্যানেজমেন্টের সুদূরপ্রসারী পছন্দ। আর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে মেহেদী তিনে খেলবেন এমন চিন্তাও কঠিন কর্মই বলতে হবে।