ফুল

কারনেশন

 

কারনেশন বীরুত্ জাতীয় উদ্ভিদ। স্পেন, মোনাকো, শ্লোভেনিয়ার জাতীয় ফুল। আদি নিবাস জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, ২০০০ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ করা হচ্ছে। উন্নত কাট-ফ্লাওয়ার উত্পাদনের লক্ষ্যে সাধারণত গ্রিনহাউস বা পলিশেডে কারনেশন ফুল চাষ করার জন্য উত্সাহ দেওয়া হয়। উজ্জ্বল সূর্যালোক গাছের বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত ফুল উত্পাদনে সাহায্য করে। গাছ সাধারণত ৪০  থেকে ৯০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়ে থাকে। কাণ্ড ধূসর-সবুজ, পর্বসন্ধি স্ফীত। পাতা লম্বা ঘাসের মতো। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় সাধারণত শীত মৌসুমে চাষ হয়ে থাকে। মনোরম সৌন্দর্যে নজরকাড়া ফুল কারনেশন। হলুদ, লাল, গোলাপি, বেগুনি, গাঢ় লাল, সাদা ও মিশ্র রঙের হয়ে থাকে। হালকা সুগন্ধী। ফুল সিঙ্গল বা ডাবল, নমনীয় কোমল অখণ্ড পাপড়ি ঝালরের মতো সাজানো। শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে ফুল ধরে। আমাদের দেশে কারনেশন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। 

টবে রোপণ উপযোগী। ৮-১০ ইঞ্চি টবে সারা বছর কারনেশন ফুল উত্পাদন করা যায়। টবের নিচে ইটভাঙা ২ ইঞ্চি পুরু করে দিয়ে গোবর ও রাসায়নিক সার মিশ্রিত মাটি ভর্তি করে পানি দিয়ে রেখে দিতে হবে। ৭ দিন পর টিস্যু কালচারের হার্ডেনিং করা চারা লাগাতে হবে। গাছ ৬-৭ ইঞ্চি লম্বা হবার পর গাছের আগা কেটে দিলে প্রচুর শাখা বের হবে। গাছগুলো বড় হতে থাকলে একসঙ্গে খুঁটি দিয়ে বেঁধে সোজা করে রাখতে হবে এবং নিয়মিত পানি দিতে হবে। গাছ অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে না। মাঝে-মধ্যে মাটি শুকনো এবং মালচিং করে দিতে হবে। মাটিবাহিত রোগের জন্য চারা লাগানোর আগে মাটি শোধন করে নিলে ভালো হয়। গোড়া পচা, উইলটিং, পাউডারি মিলডিউ, পাতা ও ফুলে দাগ পড়া এবং রোগ দেখা দিতে পারে। নিয়মিত  ছত্রাকনাশক স্প্রে করে রোগ দমন করতে হবে। জাবপোকা, মাইট, থ্রিপস কারনেশনে আক্রমণ করে। এসব দমনে কীটনাশক স্প্রে না করে উপায় নেই।

ফুল সকালবেলা সংগ্রহ করতে হয়। পূর্ণ বিকশিত হওয়ার আগেই ফুল সংগ্রহ করা প্রয়োজন। কাটার সময় ডাল যথাসম্ভব লম্বা রাখতে হবে। ঠিকমতো যত্ন নিলে একই গাছ থেকে ২-৩ বছর ফুল সংগ্রহ করা যায়।