চুক্তিবদ্ধ সংযোগ নিষ্পত্তি না করায় বিপাকে ২০ হাজার আবেদনকারী

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ কয়েক বছর যাবত্ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তার আগে গ্রাহকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নতুন সংযোগ নিয়ে নিষ্পত্তি করছে না কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি। তাদের সংযোগ প্রদান অথবা ডিমান্ড নোটের টাকা ফেরত কোনোটাই করছে না কর্তৃপক্ষ। এসব সংযোগ নিয়ে রোড কাটিংয়ের অনুমোদনসহ নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে টাকা খরচ করে ফেলেছে তারা। এতে চরম বিপাকে পড়েছে ২০ হাজার আবেদনকারী। নতুন সংযোগের জন্য এসব আবেদনকারী ও ঠিকাদাররা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি, মানববন্ধন ও সভা সমাবেশ করে চলেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত পাচ্ছে না তারা।

গত ৫ বছর যাবত্ আবাসিকে নতুন সংযোগ প্রদান বন্ধ রেখেছে সরকার। শিল্পে নতুন সংযোগ দেওয়া হলেও আবাসিকে বন্ধ রয়েছে। সংযোগ প্রদান চালু থাকা অবস্থায় এসব আবেদন জমা নিয়েছেন কর্ণফুলী গ্যাস কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২০ হাজার আবেদনকারীর জামানত বাবদ প্রায় ২৫ কোটি টাকা জমা রয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির কাছে। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির তালিকাভুক্ত প্রায় ৪০০ ঠিকাদার রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহককে নতুন সংযোগ বা চুলা বর্ধিতকরণের আবেদন ঠিকাদারের মাধ্যমে করতে হয়। কয়েকজন ঠিকাদার জানান, নতুন সংযোগের জন্য কোম্পানিকে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা ছাড়াও রোড কাটিংয়ের জন্য সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও এলইজিডির কাছে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা হয়েছে। প্রতি বর্গফুট রোড কাটিংয়ের জন্য ৩ হাজার টাকার ওপরে পরিশোধ করতে হয় এবং তার সঙ্গে ভ্যাট দিতে হয়। দূরত্ব ভেদে বিভিন্ন ক্যাটাগরির আবেদন রয়েছে। একটি আবেদনের পেছনে ২০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে গেছে। আবেদন জমা দিতে এবং রোড কাটিংয়ের অনুমোদন নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অতিরিক্ত টাকাও খরচ করতে হয়েছে বলে অনেক আবেদনকারী অভিযোগ করেছেন। তবে লেনদেন যা হয়েছে তা ঠিকাদারের মাধ্যমে হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার ও গ্রাহক পরিষদের সহসভাপতি আলী নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তা সব কিছু জেনেশুনে নতুন সংযোগের আবেদন জমা নিয়েছেন। এতে তারা বাড়তি টাকা আয় করতে পারবেন। ২০১৫ সালে আবাসিকে নতুন সংযোগ বন্ধ রাখার কোনো পরিপত্র জারি হয়নি। ২০১৭ সালে পরিপত্র জারি হয়েছে। ফলে তার আগে থেকেই নতুন সংযোগ বন্ধ রেখেছে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এখন জমাকৃত আবেদন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে রেখে লভ্যাংশ পাচ্ছে গ্যাস কোম্পানি।’

জমাকৃত আবেদনকারীদের নতুন সংযোগ প্রদানের জন্য মানববন্ধন করেছে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম সুজন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে এলএনজি গ্যাস ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ২০ হাজার আবাসিক সংযোগের জন্য ৭/৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস লাগতে পারে। অথচ গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা জমা নিয়ে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না।’

গ্রাহকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সংযোগ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, এসব সংযোগ নিয়ে সরকারের মনোভাব ইতিবাচক। বিষয়টি ইতিপূর্বে বোর্ড চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।