ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ফুলবাড়িয়ায় কালাজ্বর নিয়ন্ত্রণে আসলেও বাড়ছে থ্যালাসেমিয়া রোগী। উপজেলায় এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অর্ধশতাধিক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. হারুন আল মাকসুদ জানান, থ্যালাসেমিয়া একটি জিনঘটিত রোগ। এ রোগে রক্তে অক্সিজেন পরিবহনকারী হিমোগ্লোবিন কণার উত্পাদনে ত্রুটি দেখা দেয়। এ রোগে আক্রান্তরা রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ায় ভোগেন। এমনকি এ রোগে অঙ্গহানি পর্যন্ত হতে পারে। উপজেলার আছিম গ্রামের নজরুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আড়াই বছর বয়স থেকে তার ছেলে শিফাত এ রোগে আক্রান্ত হয়। প্রতি মাসে, এমনকি ১৫ দিন অন্তর তার রক্ত বদলাতে হয়। প্রায় ১৮ বছর ধরে এভাবে চলছে। প্রতিমাসে রক্ত পরিবর্তনসহ আনুষঙ্গিক মিলিয়ে ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। ছেলের চিকিত্সা করাতে গিয়ে তার পরিবারটি আজ প্রায় নিঃস্ব। তিনি জরুরি ভিত্তিতে সরকারের কাছে ফুলবাড়িয়ায় থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিত্সা কেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছেন। আছিম বাশদি গ্রামের সাবেক শিক্ষক আ. ছালাম জানান, তার মেয়ে সারাফাতুন নেছাকে দুই বছর বয়স থেকে প্রতিমাসে রক্ত দিতে হচ্ছে। এখন সে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার চিকিত্সা চালাতে গিয়ে পরিবারটি আজ নিঃস্ব। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিধান চন্দ্র দেবনাথ বলেছেন, ফুলবাড়িয়ায় এ রোগে আক্রান্ত অর্ধশতাধিক রোগী রয়েছে। তবে সবার রক্তের প্রয়োজন হয় না। অনেক রোগী চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে সাধারণ জীবনযাপন করতে পারে।