ভ্রমণকর অনলাইনে পরিশোধ করা যাবে

বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এতদিন ভ্রমণকর ব্যাংকের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি পরিশোধ করা হতো। এজন্য মানুষকে দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়াও হয়রানির শিকার হতে হতো। এই কর আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে (বিশেষত স্থলপথ ও জলপথে) অনলাইনে ভ্রমণকর আদায় ব্যবস্থা চালু করেছে এনবিআর। এজন্য সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে হবে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। গতকাল শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যন আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এবং দর্শনা ও খুলনার ভোমরা ভ্যাট কমিশনারেট অফিসে এটি চালু করা হয়েছে। শিগিগরই দেশের অন্যান্য স্থল ও নৌবন্দরে এ কার্যক্রম চালু করা হবে। অনলাইন ব্যবস্থায় এ কার্যক্রমে ভ্রমণকর আদায়ের ব্যবস্থাটি দেখভাল করবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। সব ব্যাংকের ডেবিট, ক্রেডিট বা প্রি-পেইড কার্ড ছাড়াও বিকাশ, রকেট ও ইউ ক্যাশসব মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিতে যে কোনো জায়গা থেকে কর পরিশোধ করা যাবে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের যে কোনো শাখার মাধ্যমেও এ অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

বক্তারা বলেন, অনলাইনে ভ্রমণকর আদায়ের উদ্যোগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে একধাপ অগ্রগতি। তবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ইমিগ্রেশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। অন্যদিকে এ ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতার বিষয়ও তাদের বক্তব্যে উঠে আসে।

মহা হিসাব নিরীক্ষক মুসলিম চৌধুরী বলেন, অনলাইন ব্যবস্থাটি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন সড়ক পথে যাতায়াত করে। অনলাইনে ভ্রমণকর পরিশোধ করা গেলে মানুষের হয়রানি কমবে। অন্যদিকে এ ব্যবস্থার ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা তৈরি হবে। ফলে রাজস্ব আদায়ও ঠিকমতো হবে। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় ঠিকমতো না হলে সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে ঘাটতি তৈরি হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এজন্য মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। আস্থা অর্জনের ভালো উপায় হলো—অনলাইন পদ্ধতি কার্যকর করা।

এনবিআর সদস্য কানন কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধানসহ এনবিআর এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

বর্তমানে স্থলপথ ও জলপথে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে ভ্রমণকর যথাক্রমে ৫০০ ও ৮০০ টাকা। আর শিশুদের ক্ষেত্রে (পাঁচ বছরের নিচে) তা অর্ধেক। অন্যদিকে বিমানে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার ক্ষেত্রে ভ্রমণকর আড়াই হাজার টাকা, সার্কভুক্ত দেশগুলোতে ৮০০ টাকা ও অন্যান্য দেশে ১ হাজার ৮০০ টাকা। শিশুদের ক্ষেত্রে এই কর প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অর্ধেক।