মিলন চক্রবর্তী, বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানে জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভা ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (পিডিপি) বাস্তবায়নে আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজ প্রকল্পের মেয়াদ শেষের দেড় বছর পরও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। এতে পৌরবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে। ড্রেন নির্মাণ করতে অভ্যন্তরীণ সড়ক কেটে ফেলায় দুই বছর পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যকার সংযোগ সড়কও। ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি কেটে কাজ বন্ধ রাখায় পৌর শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান নালা (ছড়াটি) পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল এবং ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। রাস্তা কেটে ফেলায় বাঁশের সাঁকো বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ভুক্তভোগীরা।
প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন সংস্থা ইউজিআইআইপি প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান পৌরসভার ড্রেন, রাস্তা, দেওয়াল নির্মাণের ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ পায় ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স। ২০১৭ সালে ড্রেনের নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদার। এক বছর মেয়াদের কাজটি ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ হওয়া কথা। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষে দেড় বছর পরও অর্ধেক কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়ন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে কাজটি দ্রুত শেষ করতে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে উন্নয়ন কাজটি শেষ করতে কাজ শুরু করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জজকোর্টের পাশ থেকে ৬০ মিটার পর্যন্ত দুই পাশের আরসিসি দেওয়াল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু ড্রেনের উপরিভাগে আরসিসি ঢালাই শেষ হয়েছে মাত্র ২০ মিটার। ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির পিছন থেকে মেম্বারপাড়া-আর্মিপাড়া সংযোগ সড়কের মুখ পর্যন্ত ড্রেনের জন্য আট থেকে নয় ফুট গভীর মাটি কাটা হয়েছে। কিন্তু ড্রেন নির্মাণকাজটির অসমাপ্ত অংশটি উন্মুক্ত থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে বাসিন্দারা। অপরদিকে কালেক্টরেট স্কুলের পিছন হয়ে আর্মিপাড়া-মেম্বারপাড়া যাবার অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়কটি ড্রেনের জন্য কেটে ফেলায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সড়কটি। তবে কাটা রাস্তায় বাঁশের সাঁকো বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে পৌরবাসী। ড্রেন নির্মাণের জন্য রাস্তা কাটায়, ড্রেনের মাটি কেটে গভীর গর্ত করে উন্নয়ন কাজটি বন্ধ রাখায় পৌর শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান নালা (ছড়াটি) পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল এবং ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। তৈরি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশেপাশের এলাকাগুলোতে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন, মোহাম্মদ গনি অভিযোগ করে বলেন, ড্রেন নির্মাণ এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তিন বছরেও অর্ধেক কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। ড্রেনের মাটি এবং চলাচলের রাস্তা কেটে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে পালিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভা ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও ঠিকাদারের অবহেলায় পৌরবাসীর ভোগান্তি আরো বেড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে এলাকাগুলোতে। দ্রুত ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ করে পৌরবাসীকে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্ল্যান ছিল ১০-১২ ফুট গভীর এবং ২৪ ফুট চওড়া ড্রেন তৈরির। ড্রেনের ওপরে আরসিসি স্ল্যাব বসিয়ে রিকশা-ইজিবাইকসহ হালকা যানবাহন চলাচলের রাস্তা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে পানি নিষ্কাশনের প্রধান নালা (ছড়া) স্বাভাবিক প্রশস্ত থেকে ড্রেনটি আরো সরু হয়ে গেছে। গভীরতার পরিমাণও অনেক কমে গেছে। ড্রেনের লেভেল ঠিক হচ্ছে না, লেবেল ঠিক না থাকলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বাড়বে। জলাবদ্ধতায় ঘন ঘন বন্যার মুখোমুখি হবে পৌরবাসী। সমস্যা থেকে উত্তরণের বদলে ভোগান্তি বাড়বে কয়েকগুণ। এ বিষয়ে বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মংসুই খয় জানান, ঠিকাদারের অবহেলায় ড্রেন নির্মাণ কাজটি মেয়াদের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষের জন্য তাগাদা দেওয়ার পরও অগ্রগতি হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে কাজটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ২২ ফুট প্রস্থ এবং আট ফুট গভীর ড্রেন নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। তিন ইঞ্চি লেবেল মিলিয়ে ড্রেনটি নির্মাণ করা হচ্ছে।