‘ঝুটের জ্যাকেট যাচ্ছে বিদেশে’

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

শীত প্রলম্বিত হওয়ায় প্রতিদিন সৈয়দপুরে তৈরি জ্যাকেটের চাহিদা বেড়েই চলেছে। চলতি শীত মৌসুমে ভারতে রপ্তানি হয়েছে এখানকার ঝুট কাপড়ে তৈরি ১ লাখ জ্যাকেট। বেচাকেনা ভালো হওয়ায় বেজায় খুশি স্থানীয় ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিকরা ।

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের শীতবস্ত্র পাইকারি কেনাবেচার বাজার নিউ ক্লথ মার্কেট, লন্ডাবাজ, শহিদ ডা. শামসুল হক সড়ক ঘুরে দেখা যায়, প্রচুর ভিড় সেখানে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে জ্যাকেট বাছাই করছেন। কথা হয় ঠাকুরগাঁও থেকে আসা ব্যবসায়ী এনামুল হকের সঙ্গে। তিনি জানান, ঝুট কাপড়ের তৈরি জ্যাকেটগুলো অনেক সুন্দর।  সৈয়দপুরের ক্ষুদ্র গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে এসব জ্যাকেট তৈরি হচ্ছে। একেকটি জ্যাকেটের দাম নিচে ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

নিউ ক্লথ মার্কেটের ব্যবসায়ী এনতাজুল হক বলেন, সৈয়দপুরের জ্যাকেট রংপু্?র, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বাজারগুলোতে যাচ্ছে। সৈয়দপুরের গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক মতিয়ার রহমান দুলু বলেন, এ বছর শীত বেশি পড়ায় ভারতে জ্যাকেট রপ্তানি বেড়েছে। প্রতিদিন অর্ডার আসছে। আমার প্রতিষ্ঠান এম আর গার্মেন্টস এরই মধ্যে ১ লাখ ডলারের ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে ভারতে জ্যাকেট রপ্তানি করেছে। অন্যান্য রপ্তানিকারক সবমিলিয়ে ১ লাখ পিস জ্যাকেট পাঠিয়েছি। নেপাল-ভুটানেও আমাদের জ্যাকেট যাচ্ছে। পুঁজির জোগান থাকলে রপ্তানি আরো বাড়ত। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যাংকিং খাত থেকে সহযোগিতা দাবি করেন তিনি। রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক সমিতির সভাপতি আখতার খান জানান, সৈয়দপুরে ৫০০ ছোটো-বড়ো গার্মেন্টস কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় শার্ট, মোবাইল প্যান্ট, জিন্স, ট্রাউজার, হাফপ্যান্ট, অন্তর্বাস ইত্যাদি তৈরি হয়। শীতে তৈরি হয় জ্যাকেট। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এসব ভারত, নেপাল-ভুটানে রপ্তানি হচ্ছে। চলতি বছর শীত জেঁকে বসায় ভারতে বিপুল পরিমাণে জ্যাকেট রপ্তানি হয়েছে বলে জানান তিনি । দি সৈয়দপুর বণিক সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, সৈয়দপুরের ক্ষুদ্র গার্মেন্টস খাত রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর সম্প্রসারণে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।