করোনা ভাইরাস এই মুহূর্তে টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড। কারণ, ভাইরাসটি এতটাই মারাত্মক যে, আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশের মৃত্যু ঘটাইতে পারে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা চীনে ২ হাজার ছাড়াইয়া গিয়াছে, যাহাদের মধ্যে মৃত্যু হইয়াছে ৫৬ জনের। দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর বৈঠকে শনিবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলিয়াছেন, চীন ‘গুরুতর পরিস্থিতি’ মোকাবিলা করিতেছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করিতেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে চীনের জিডিপির ১ শতাংশ ক্ষতি হইতে পারে। সংক্রমণ রুখিতে চীনে ১ কোটি ১০ লক্ষ বাসিন্দার উহান শহরে জরুরি যানবাহন ছাড়া বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছে সব ধরনের যান চলাচল। উহান যে হুবেই প্রদেশের অন্তর্গত সেইখানকার ২২টি শহর কার্যত ‘লকডাউন’ করিয়া দেওয়া হইয়াছে। দোকানপাট, স্কুলকলেজ—সকল কিছু বন্ধ। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী ছাড়া উহানের রাস্তায় সমস্ত রকমের গাড়ি চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হইয়াছে। এত কিছুর পরেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ চীনে বাড়িতেছে লাফাইয়া লাফাইয়া। এমনকি ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলিয়াছে রাজধানী বেইজিংয়েও।
অস্বাভাবিক কিছু মারণরোগের প্রাদুর্ভাব এই পৃথিবীতে নূতন নহে। তবে হঠাত্ হঠাত্ বিশ্বের কোথাও কোথাও এমন কিছু সংক্রামক মারণরোগের প্রাদুর্ভাব ঘটিতেছে, যাহার মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলি হিমশিম খাইতে পারে বলিয়া আশঙ্কা করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। চীনের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণও তেমনটি ঘটাইতে পারে। ভাইরাসটি অতীতের সার্স ভাইরাসের জ্ঞাতি প্রজাতি। ইতিপূর্বে ২০০২-২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের সংক্রমণের পর দ্রুত পদক্ষেপের অভাবে বিপর্যয় ঘটিয়াছিল। সেই সময় চীনে মৃত্যু হইয়াছিল ৩৪৯ জন আর হংকংয়ে ২৯৯ জনের। সেই সার্স ভাইরাসের সহিত যথেষ্ট মিল রহিয়াছে এই নভেল করোনা ভাইরাসের। সেই কারণে, এইবার যাহাতে তাহার বিস্তার শুরুতেই রোধ করা যায়, সেই ব্যাপারে সারা বিশ্বই সতর্ক হইয়া উঠিয়াছে। চীনের বাহিরে আরো ১৪টি দেশে ছড়াইয়াছে এই ভাইরাস।
চীন যুদ্ধকালীন তত্পরতা চালাইতেছে। আমরাও বসিয়া নাই। বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরসমূহে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্তের বিশেষ মেডিক্যাল চেকআপের ব্যবস্থা যাহাতে সার্বক্ষণিকভাবে চালু থাকে, তাহা নিশ্চিত করিতে হইবে। কারণ, আমাদের মতো জনবহুল দেশে এই ভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করিতে পারে। ইহা যেহেতু আক্রান্তের হাঁচি-কাশি-সর্দির মাধ্যমে ছড়াইবার ক্ষমতা রাখে, সেই কারণে কিছু সাবধানতা সর্বমান্য। যেমন—সাবান দিয়া নিয়মিত হাত ধোয়া, সর্দি-কাশি হইলে মাস্ক পরিধান করা, হাঁচি-কাশি হইলে মুখ ঢাকিয়া হাঁচি বা কাশি দেওয়া এবং সেই হাত সাবান দ্বারা ধুইয়া ফেলা। অন্যদিকে আক্রান্ত দেশে কোনো বাংলাদেশি অবস্থান করিলে তাহার উচিত স্থানীয় বাজারের পোলট্রির পাখিসহ পশুপাখি হইতে দূরে থাকা। কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ ডিম বা মাংস না খাওয়া এবং ইহার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভিড় এড়াইয়া চলা। তবে কেহ যাহাতে আতঙ্কিত না হয়, সেইদিকেও লক্ষ রাখিতে হইবে।