এই কালো রাত কবে হবে শেষ

আকলিমা আক্তার সোমা

ধর্ষণ নামক জঘন্য ব্যাধিটি সমাজ ও রাষ্ট্রে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্ষণ যেন নিত্যদিনের ডাল-ভাত হয়ে গেছে। বাসে, ট্রেনে, খোলা রাস্তায়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সবর্ত্রই মহাসমারোহে চলছে ধর্ষণোত্সব। এমনকি নিরাপত্তা নেই নিজের ঘরেও। খবরের কাগজ খুললেই দেশের এখানে-সেখানে ভূরি ভূরি ধর্ষণের খবর। ২০১৯ সালে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা ২০১৮ সালের তুলনায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ১ হাজার ৯১৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৬ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন। ২০১৮ সালে ধর্ষণের সংখ্যাটা ছিল ৭৩২ জন আর ২০১৭ সালে ৮১৮ জন। অন্যদিকে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন জানিয়েছে ২০১৯ সালে ধর্ষণের শিকার নারীদের মধ্যে ৯০২ জনই শিশু, এর মধ্যে ৭ থেকে ১২ বছরের শিশু ছিল ৩৯ শতাংশ আর ১৩ থেকে ১৮ বছরের ৪৮ শতাংশ। ২০১৮ সালে শিশু ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৩৫৬। ২০১৮ সালের তুলনায় গত বছর শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের হার ৭৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম। সমগ্র বাংলাদেশই যেনো ধর্ষকের অভয়ারণ্য। ধর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এর শেষ কোথায়?  আর কত নারীর সম্ভ্রমের বলিদান হলে এ নৃশংস ধর্ষণ থামবে? ধর্ষণের কারণ নারীর পোশাক নয়, পুরুষের বিকৃত মানসিকতা। পুরুষের এই বিকৃত মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। দরকার পারিবারিক এবং সামাজিক মূল্যবোধ। শিক্ষার শুরুটা হোক পরিবার থেকেই। পরিবারে আপনার ছেলে শিশুর পাশাপাশি মেয়ে শিশুকেও সমান গুরুত্ব দিন। ছেলেকে শিক্ষা দিন মেয়েদের সম্মান করতে, মেয়েদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার বীজ যেন ছেলেবেলা থেকেই ভেতরে বপন না হয়। পাশাপাশি দরকার ধর্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নয়, ধর্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যেন সোনার বাংলার বুকে আর কোনো ধর্ষক মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। ধর্ষিতা নয়, শাস্তি হোক ধর্ষকের। আর কোনো ধর্ষকের নৃশংসতার শিকার যেন না হতে হয় কোনো নারীকে। রক্তের দামে কেনা স্বাধীন বাংলার নারীরাও হোক স্বাধীন।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়