খুলনায় সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে জঙ্গিরা সক্রিয় রয়েছে। এই জঙ্গি তত্পরতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়ছে। জঙ্গিরা বিভিন্নভাবে সদস্য নির্বাচন, সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ ও কর্মীদের বায়াত গ্রহণ করানোর মাধ্যমে দলীয় শক্তি বৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে তারা মাথাচাড়া দিতে পারছে না।
পুলিশের সূত্রমতে, খুলনায় বড়ো ধরনের কোনো অপরাধ ঘটাতে না পারলেও জঙ্গিরা তাদের অপতত্পরতা অব্যাহত রেখেছে। এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়ছে। গত শুক্রবার দুই জঙ্গির আস্তানার খবর পায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) একটি বিশেষ টিম নগরীর গল্লামারী খোরশেদনগর এলাকার হাসনাহেনা নামের চতুর্থতলা বিল্ডিংয়ের নিচতলায় দীর্ঘ তিন ঘণ্টার বেশি সময় অভিযান চালায়। এ সময় নূর মোহাম্মাদ অনিক (২৪) ও মো. মোজাহিদুল ইসলাম রাফি (২৩) নামে নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। নূর মোহাম্মাদ অনিক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচ আর এম) ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও মো. মোজাহিদুল ইসলাম রাফি পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। অনিক খুবির বঙ্গবন্ধু হলের ৩১৮ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র ও রাফি খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ হলের ২০৩ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র। তাদের গ্রেফতারের সময় ঐ বাসা থেকে দুটি কালো রঙের রিমোট কন্ট্রোল, একটি ল্যাপটপ, ১৪৪ বক্স দিয়াশলাই, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক তারসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, অনিক বিবাহিত। তিনি ঐ বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তার স্ত্রী সোমাইয়া চৌধুরী যখন বাসায় থাকতেন না সেই সময় অনিক ও তার বন্ধু রাফি বাসাটিতে অবস্থান করতেন। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গত বছরের সেপ্টেম্বরে নগরীর খানজাহান আলী থানার কৃষক লীগ অফিসে বোমা বিস্ফোরণ ও ডিসেম্বরে আড়ংঘাটা থানার গাড়ি রাখার গ্যারেজে বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে গত ১২ জানুয়ারি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৬) সদস্যরা নগরীর রেল স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’-এর দুই সদস্য মো. ফসিয়ার রহমান ও মো. জাহাঙ্গীর আলম মোড়লকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, মোবাইল ফোনের দুটি সিম কার্ড ও নগদ ১ হাজার ৮৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। তারা এ সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দলীয় মিটিং, উগ্রবাদী বই বিতরণ, অর্থ দেওয়া ও আদায় এবং সংগঠনে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য দাওয়াত দেওয়া ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে আসছিল। এর আগে র্যাব সদস্যরা গত বছরের ৩ মে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দলের তিন জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করে। এরা সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায় এবং আড়ালে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড করে।