ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময়সীমা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন নির্ধারণ করে ‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন-২০২০’ নামে একটি বিল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাশ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়।
বিলটি পাশের বিরোধিতা করে বিএনপির দুই জন সংসদ সদস্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা যা বলেছেন, তাতে কিন্তু আমরা আশ্চর্য হইনি। কারণ ওনাদের (বিএনপি) তো ভোট করারই অভ্যাস নেই। বিএনপি নির্বাচন নিয়ে অতীতে কী করেছে? ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিকে সংসদে এনে বিরোধী দলের নেতার আসনে বসিয়েছেন। শুধু ভোটারবিহীন নির্বাচন করেও তারা খুশি হননি, ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে তালিকা তৈরি করেছিলেন। আজ তারাই আবার নির্বাচন নিয়ে আইনের শিক্ষা দিচ্ছেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা জনগণের কথা বলি, স্বার্থ দেখি। ১৯৮২ সাল থেকে শুরু হয়েছে এ আইনটা। ২০০০ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে এসেছে। আমরা আইনে প্রণয়ন করতেই বিলটি এনেছি। কিন্তু তারা (বিএনপি) ভাঙা রেকর্ডের মতো পুরোনো কথা বলেন। বিএনপি তো এনালগ, ডিজিটাল না। বিএনপি তো বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি, এখানে তো বাংলাদেশিই নেই।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি পাশের আগে বিলটির ওপর জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (এ) ও বিএনপি দলীয় সদস্যরা। এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির (এ) রওশন আরা মান্নান এবং বিএনপির মো. হারুনুর রশীদ ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বিরোধীদলীয় সদস্যদের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
পাশ হওয়া বিলে ভোটার তালিকা আইনের ১১ ধারার ১-উপধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে জাতীয় ভোটার দিবসের সঙ্গে মিল রেখে কম্পিউটার ডাটাবেজে সংরক্ষিত বিদ্যমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময়সীমা প্রতি বছর ২ জানুয়ারি হতে ৩১ জানুয়ারির পরিবর্তে ‘২ জানুয়ারি হতে ২ মার্চ’ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময়সীমা ৬০ দিন হবে। উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিলটি পাশের সুপারিশ করে গত ২৩ জানুয়ারি সংসদে প্রতিবেদন জমা দেয়।