দেশের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন জরুরি :দুদক চেয়ারম্যান

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দেশের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। কারণ দুর্নীতি দমন কমিশন যে সব ই-গভর্মেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ইজিপি) সংক্রান্ত দুর্নীতি তদন্ত করছে, তাতে দেখা যাচ্ছে এই প্রক্রিয়াকে কতিপয় ব্যক্তি বিকৃত করে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকেই বিতর্কিত করছে। গতকাল রবিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইমের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনাকালে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ-এসব কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অপরাধীরা সুকৌশলে ইজিপি প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে ইজিপি সংক্রান্ত দুর্নীতি করছে। এসব অপরাধীর কারণেই একই ঠিকাদার অধিকাংশ সরকারি কাজ পাচ্ছে। ইতিমধ্যে ইজিপি প্রক্রিয়ায় এ জাতীয় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদার গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদেও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাই পাবলিক প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় দেশের স্বার্থেই এর ফাঁকফোকড় বন্ধ করা সমীচীন।

এক্ষেত্রে ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইমের সহযোগিতা চেয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এসব নীতিমালা প্রণয়নে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চাসমূহকে কীভাবে সংযোজন করা যায়, যাতে পদ্ধতিগতভাবেই দুর্নীতির সুযোগ রুদ্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে আপনারাও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা করতে পারেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৬ সালে আমরা কমিশনের দায়িত্ব নিয়েই জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড-এর সহযোগিতায় দেশের বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম, শিক্ষক-সিভিল সোসাইটি, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগীসংস্থাসহ সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কর্মকৌশল প্রণয়ন করি (২০১৭-২০২১) । ২০২১ সালেই এ কর্মপরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তাই আগামী বছরেই কমিশনের নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এক্ষেত্রে ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইমের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সৃজনশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন এই লক্ষ্যমাত্রার ১৬ নম্বর লক্ষ্য অনুসারে সমাজের সর্বস্তরে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয় এই লক্ষ্যমাত্রার ৪ নম্বর লক্ষ্য বাস্তবায়নে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে পদ্ধতিগত সংস্কারে যেমন কমিশন ভূমিকা রাখছে, তেমনি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে মামলা করা হচ্ছে, আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে আবার প্রায় প্রতিনিয়তই প্রতিরোধমূলক অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদকের প্রশিক্ষণ ও আইসিটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল ।