ইসির অভ্যন্তরেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই :মাহবুব

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে মন্তব্য করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘সভায় আমার প্রস্তাব বা সুপারিশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অগৃহীত হয়। আমার বক্তব্য প্রদানের স্থান সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এমনকি ইউও নোটের মাধ্যমে গত ২০ জানুয়ারির মধ্যে ইসি সচিব এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটির দুই রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে তথ্যাদি জানাতে বলেছিলাম। কিন্তু আমার সেই নির্দেশ উপেক্ষিত হয়েছে এবং কোনো তথ্যই আমাকে সরবরাহ করা হয়নি।’ রবিবার নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

এমন অভিযোগের বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তারা তথ্য দিতে বাধ্য। তবে তারা কমিশনকে জানাবে। যেহেতু কমিশনের বিষয় সেহেতু সিইসির কাছে আগে তথ্য জানাতে হবে। তবে সরাসরি কাউকে উত্তর দিতে পারবেন না। রিটার্নিং অফিসাররা একজন কমিশনারের কাছে তথ্য দিতে বাধ্য না। দিলে পাঁচ জনের কাছে দিতে হবে।’

মাহবুব তালুকদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘দুই সিটির নির্বাচন সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের যেভাবে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন, তা হচ্ছে না। নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর  থেকে আজ পর্যন্ত যে তিনটি কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়, তার কোনোটিতে ঢাকা সিটি নির্বাচনের আচরণবিধি, অনিয়ম বা প্রার্থীদের অভিযোগ সম্পর্কে আলোচনা হয়নি এবং সভায় এসব বিষয় এজেন্ডাভুক্ত হয়নি। ২৮ জানুয়ারি যে নির্বাচন কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে তাতেও ঢাকা সিটি সম্পর্কে কোনো বিষয় এজেন্ডাভুক্ত নয়। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, ঢাকা সিটি নির্বাচন সম্পর্কে আমি বিগত ৯, ১৩, ১৬ ও ২০ জানুয়ারি যে চারটি ইউও নোট প্রদান করেছি, তা রীতিমতো উপেক্ষা করা হয়েছে এবং আমলে নেওয়া হয়নি। এসবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো আলোচনা হয়নি বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গৃহীত হয়নি। যদি আমার বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য হয়, তাহলেও আমাকে তা জানানো উচিত ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে যে সব অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বা অভিযোগপত্র প্রেরিত হয়েছে, তা নিয়ে কমিশনে কোনো প্রকার আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এসব অভিযোগের পেছনে যে অসন্তোষ আছে, তা বিস্ফোরিত হলে নির্বাচন যথোপযুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হবে না, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমি কোনো দলের নই। আমি বিবেক দ্বারা পরিচালিত।’ নিজেদের (কমিশন) মধ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকলে ভোটের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কিভাবে থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের পাঁচ জনের পাঁচ রকম মত হতেই পারে। অনেক বিষয় রয়েছে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। কোনো কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকে। সেটা কারো ওপর চাপিয়ে দিতে পারি না। কমিশনে সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্ততেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেখানে সংখ্যালঘিষ্ঠ হিসেবে আমার প্রস্তাব হয়ত গৃহীত হয় না।’

এদিকে, নির্বাচন কমিশনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নেই, মাহবুব তালুকদারের এমন বক্তব্যের বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, ‘তিনি কি বুঝিয়েছেন জানি না। পাঁচ জন কমিশনারকে নিয়ে কমিশন। তাদের কোনো বিষয়ে দ্বিমত হয়, আবার আলোচনার মাধ্যমে একমতও হন। সে জন্য সুন্দর নির্বাচন হচ্ছে।’ কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজও ঠিক মতোই চলছে। নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।