‘লড়াইটা আমি লড়তে পারলাম না মা। হেরে গেলাম। তোমরা লড়াইটা চালিয়ে যেও। ওরা (অপরাধীরা) যেন কিছুতেই পার না পায়।’ মারা যাবার আগে আগুনে দগ্ধ হয়ে সঞ্জলি নামে এক মেয়ে তার মাকে এই কথা বলছিল।
মঙ্গলবার ভারতের আগরার লালাউ গ্রামে সঞ্জলির গায়ে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দিল্লির সফদরজঙ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।
আশরাফি দেবী চিদ্দা সিংহ ইন্টার-কলেজ স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ত সঞ্জলি। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় অজ্ঞাতপরিচয় যুবক মোটরসাইকেলে চেপে এসে তার গায়ে পেট্রল ছিটিয়ে, জ্বলন্ত লাইটার ছুড়ে দেয়। এতে আগুনে পুড়তে শুরু করে সঞ্জলি। তা দেখে পথচারীরা একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায় সঞ্জলিকে।
ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, ১৫ বছর বয়সী সঞ্জলি ভারতে দলিত পরিবারের মেয়ে হিসাবে পরিচিত। তার বাবা পেশায় দিনমজুর। তবে তাকে কে এবং কেন হত্যা করা হয়েছে তা জানা যায়নি।
আরো পড়ুন: ‘পিতার হত্যাকারীদের প্রতীক নিয়ে রেজা কিবরিয়ার নির্বাচন লজ্জার’
চোখ মুছতে মুছতে সঞ্জলির মা অনিতা বললেন, ‘আমার মেয়ের গায়ে যারা কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছে, তাদের জেলে না পোরা পর্যন্ত থামব না। শেষ দেখেই ছাড়ব।’
আগরার সার্কেল অফিসার ডিএসপি নম্রিতা শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘আমরা অপরাধীদের ধরে ফেলব।’
সঞ্জলির বাবা হরেন্দ্র সিংহ বলেন, ‘আর কবে ধরবে! তারা কি আর আছে এলাকায়? পালিয়ে গিয়েছে অন্য কোথাও।’
সঞ্জলির মা-বাবা জানান, প্রশাসনের লোকরা জানতে চাইছিলেন আমাদের কতটা ক্ষতিপূরণ চাই। তবে ওদের বলে দিয়েছি, কিছুই চাই না। শুধু চাই অপরাধীদের এখনই ধরা হোক। আর তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।
ইত্তেফাক/জেডএইচ