অবেলায় না ফেরার দেশে কোবি

কোবি ব্রায়ান্ট : ১৯৭৮-২০২০

 স্পোর্টস ডেস্ক

তিনি লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নন; শচীন টেন্ডুলকারও নন। তবু বছরের পর বছর শীর্ষ ক্রীড়াবিদের খেতাব বাস্কেটবল তারকা কোবি ব্রায়ান্টকে দুনিয়ায় অনন্য আসনে তুলে এনেছিল। বাস্কেটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই কিংবদন্তি এখন অতীত। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মাত্র ৪১ বছর বয়সেই সমাপ্তি ঘটল তার নশ্বর জীবনের। সঙ্গে ১৩ বছরের কন্যা জিয়ানারও।

অকালপ্রয়াত কোবি রেখে গেছেন স্ত্রী ভেনেসা এবং তাদের আরো তিন কন্যাকে। খেলার জন্য মেয়েকে পৌঁছে দিতেই এই হেলিপ্টারে চড়েছিলেন কোবি। হেলিকপ্টারে ছিল জিয়ানার সহখেলোয়াড় ও তার অভিভাবক এবং অন্যরা।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, কোবি গত রবিবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার জন ওয়েইন বিমানবন্দর থেকে মাম্বা অ্যাকাডেমির উদ্দেশে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারে চেপেছিলেন। মৃদু বৃষ্টি ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হেলিকপ্টারটি স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ১০টায় বিদ্ধস্ত হয় কালাবাসাসের অদূরে পর্বতশ্রেণিতে।

হেলিকপ্টারের যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি প্রতিকূল আবহাওয়া এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে জিয়ানার ক্লাব মাম্বা বলার্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোবি আর জিয়ানা ছাড়াও দলটির কোচ ও তার পরিবার ছিল হেলিকপ্টারটিতে। পেশাদার বাস্কেটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কোবির অভিষেক ১৯৯৬ সালে। লস অ্যাঞ্জেলেসের হয়ে এরপর কাটিয়েছেন ২০টি মৌসুম, এর চেয়ে বেশি এক ক্লাবে থাকার নজির আছে মোটে একটি। এমন সব কীর্তি গড়েছেন এই সময়ে, যা তাকে নিয়ে এসেছিল বাস্কেটবল কিংবদন্তি জেরি ওয়েস্ট, উইল্ট চেম্বারলিন, করিম আবদুল জব্বার ও  মাইকেল জর্ডানদের কাতারে।

হাইস্কুলের পরপরই সরাসরি এনবিএ লিগ খেলতে শুরু করেন তিনি। ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারি টরন্টো রাপ্টর্সের বিপক্ষে এক ম্যাচেই সংগ্রহ করেছিলেন ৮১ পয়েন্ট, যা এনবিএ ইতিহাসে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর।

পুরো ক্যারিয়ারে লেকার্সের হয়ে ৪৮৬৩৭ মিনিট খেলে জিতেছেন ৩৩৬৩৬ পয়েন্ট। এর ফলে বাস্কেটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোরারদের তালিকায়ও তিনি চলে এসেছিলেন তৃতীয় স্থানে। এনবিএ প্লেঅফেও এমনই অতিমানবীয় কোবি। ৫৬৪০ পয়েন্ট নিয়ে আছেন ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোরার হিসেবে। এমন পারফর্ম্যান্স দিয়ে লেকার্সকে জিতিয়েছেন পাঁচটি এনবিএ চ্যামিপয়নশিপ। দুইবার ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনি।

২০০৮ সালে এনবিএর সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন কোবি। ক্লাব কিংবদন্তির সম্মানে ৮ আর ২৪ নম্বর জার্সিকেও অবসর দিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্স। ক্লাবের নৈপুণ্যটা জাতীয় দলের হয়েও এতটুকু ম্লান হতে দেননি তিনি। ২০০৮ ও ২০১২ অলিমিপকে যুক্তরাষ্ট্রকে জিতিয়েছিলেন স্বর্ণপদক।

শুধু বাস্কেটবলেই সীমাবদ্ধ ছিল না তার জীবন। খেলা ছেড়ে যাওয়ার পর ‘ডিয়ার বাস্কেটবল’ নামে পাঁচ মিনিটের এক অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার পুরস্কারও জিতেছিলেন কোবি। এটি ছিল বাস্কেটবলকে ঘিরে ২০১৫ সালে তার লেখা এক প্রেমপত্র অবলম্বনে বানানো।