হুমকিতে পরিবেশ ও ফসলি জমি
পলাশ (নরসিংদী) সংবাদদাতা
পলাশে ডাইং কারখানার বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে হারিদোয়া নদীর পানি। এতে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সেই সঙ্গে হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ ও ফসলি জমি।
হারিদোয়া নদী উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের আলীনগরের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উত্পত্তি হয়ে শিবপুরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নরসিংদীর মেঘনা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়। তাই হারিদোয়া নদীর অধিকাংশ পলাশ উপজেলার উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ পাশের অর্ধশত গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের রাঘবদী গ্রামে দেখা গেছে, হারিদোয়া নদীর পানি একেবারে কালো। তাই গ্রামবাসী এই নদীর পানি ব্যবহার করেন না। এক সময় এই নদীর পানি দিয়ে হাজার হাজার একর জমিতে বোরো ধানের চাষসহ গৃহস্থালির সব কাজই করা হতো।
স্থানীয় আমির হোসেন জানান, জান্নাত ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। এই নদীতে এক সময় দেশি অনেক রকমের মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন পাওয়া যায় না। ডাইং কারখানার রঙিন পানিতে নদীর পানি নষ্ট হয়ে গেছে। এই পানি লাগলে শরীর চুলকায়। এছাড়া আগে পানি দিয়ে দুই ধারের জমিতে বোরো ধানের চাষ হতো। আর এখন পানির পচা গন্ধে কাছে যাওয়া যায় না। বর্ষা মৌসুমে অন্য নদী থেকে কিছু মাছ এই নদীতে আসলেও কয়েক দিন থাকার পর মরে ভেসে ওঠে। কৃষক খলিল হোসেন জানান, হারিদোয়া নদীতে শুধু ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যই ফেলা হচ্ছে না। নদীর দুই ধারে গড়ে ওঠা কারখানাগুলো প্রতিনিয়ত নদীটি ভরাট করে দখলে নিয়ে যাচ্ছে।
পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ফারহানা আলী বলেন, হারিদোয়া নদীতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নরসিংদী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনা শুনেছি। আজ মঙ্গলবার ঘটনা তদন্তে একটি টিম সেখানে যাবে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।